ম্যারাডোনার 'হাত দিয়ে গোল' দেয়া মাঠে পর্দা উঠল বিশ্বকাপের
ছবি: সংগৃহীত
০১:৩৪ এএম | ১২ জুন, ২০২৬
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছে এবারের বিশ্বকাপের। প্রথম ম্যাচও এই মাঠেই। নানা কারণে এই ভেন্যুটি ফুটবলের জন্য বিশেষ। ম্যারাডোনা-পেলেদের মতো মহাতারকাদের অসংখ্য স্মৃতির পাশাপাশি বিশ্বকাপের অসংখ্য রেকর্ডের সাক্ষী এই স্টেডিয়াম।
আজ (১১ জুন) ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র ভেন্যু হিসেবে তিনটি আলাদা ফিফা বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) ম্যাচ আয়োজন করার গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে আজতেকা।

ফুটবল ইতিহাসে আজতেকা আরও স্মরণীয় দিয়েগো ম্যারডোনা এবং পেলের জন্য। দুই মহাতারকারই এই মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতেছেন।
১৯৭০ সালে পেলের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। ওই বিশ্বকাপ জিতেই ৩ বার বিশ্বকাপজয়ী তারকা হিসেবে আজীবন অমর হয়ে আছেন পেলে।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার জাদুকরী পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে এই ভেন্যুর সঙ্গে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং কয়েক মিনিট পর করা অবিশ্বাস্য একক প্রচেষ্টার গোল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে গোলশূন্য অবস্থায় ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের দখল নিতে গিয়ে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়া সেই গোল পরবর্তীতে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর তিনি মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যে গোলটি করেন, সেটি এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত। সেই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে আলবিসেলেস্তেরা।
১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালে আরও অনেক ঐতিহাসিক ম্যাচ আয়োজনের সাক্ষী এই স্টেডিয়াম। সেই মাঠেই আজ মাঠে নামছে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। অংশ হতে যাচ্ছে ইতিহাসেরও।
আরআই/এসএন