ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হবে এই বাজেট: নাহিদ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৬ এএম | ১২ জুন, ২০২৬
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে 'উচ্চাভিলাষী', 'বাস্তবতা বিবর্জিত' এবং দেশের ইতিহাসের 'সবচেয়ে বড় ঘাটতি ও ঋণগ্রস্ত' বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটের সামনে বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান প্রশাসন ও কর কাঠামোর পক্ষে অর্জন করা একেবারেই অসম্ভব। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ৪২ শতাংশ হতে হবে। অথচ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক রাজস্ব প্রবৃদ্ধির রেকর্ড মাত্র ২৭.৩ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে এই সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁতে পারলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অন্তত ৭০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে। রাজস্ব আদায় ব্যর্থ হলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি স্বাভাবিকভাবেই আরও বাড়বে এবং বাধ্য হয়ে সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এরই মধ্যে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রায় ১৬ গুণ বেড়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকার যদি ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নেয়, তবে বেসরকারি খাতে মারাত্মক চাপ পড়বে। এর ফলে বেসরকারি খাত কাঙ্ক্ষিত ঋণ ও বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হবে, যা শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থান সংকুচিত করবে এবং দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী 'অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের কথা বললেও ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেননি বলে সমালোচনা করেন বিরোধী দলীয় এই চিফ হুইপ। তিনি অভিযোগ করেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কোনো রূপরেখা বাজেটে তুলে ধরা হয়নি। উল্টো ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন দলীয়করণ ও নৈরাজ্য চলছে।
উদাহরণ হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকটিকে আবারও এস আলমের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে গ্রাহক ও আমানতকারীদের মধ্যে নতুন করে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা পুরো ব্যাংকিং খাতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সবশেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আস্থা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা এখনো হয়নি। বাজেট বক্তৃতা শুনতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এটি দেশের অর্থনীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারবে না। অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি রাজনৈতিক সংস্কারের থেকে আলাদা কিছু নয়; অথচ বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি প্রায় নেই বললেই চলে। সার্বিক বিবেচনায় এই বাজেট নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
টিজে/এসএন