স্টেডিয়ামে চলছিল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন, বাইরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৭ পিএম | ১২ জুন, ২০২৬
রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম যখন নতুন ইতিহাস লিখছে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। মেক্সিকো সিটির আলোর ঝলকানি, পপস্টার শাকিরার সুরের মূর্ছনা আর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমান্তরালে বাইরে চলেছে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের তুমুল সংঘর্ষ। মেক্সিকোর তীব্র সামাজিক অস্থিরতা, শিক্ষক ধর্মঘট আর মাদক সহিংসতার বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভের আঁচ লেগেছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী আসরেও।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠেছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে শুরু হয় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার আজতেকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয় জানায়, ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ২০০ জন মুখোশধারী ব্যক্তির একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের তীব্রতার কারণে মেক্সিকো সিটি মেট্রো কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এমনকি শহরের একটি অফিশিয়াল 'ফ্যান জোনে'ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাধারণ সমর্থকেরা কোনো বড় ধরনের বিলম্ব ছাড়াই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পেরেছেন।
এই বিক্ষোভের মূল সূত্রপাত মেক্সিকোর সরকার এবং জাতীয় শিক্ষক ইউনিয়নের (সিএনটিই) একটি অংশের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে। মেক্সিকোর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবমের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০৭ সালের বিতর্কিত 'আইএসএসএসটিই' আইন বাতিল এবং ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দেশজুড়ে দশম দিনের মতো ধর্মঘট পালন করছে সিএনটিই। এই ধর্মঘটের কারণে দেশটির প্রায় ১০ লাখের বেশি শিশু স্কুলে যেতে পারছে না।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে জুন মাসের শুরুতে বিক্ষোভকারীরা প্লাস্টিকের তৈরি ফুটবলারদের ভাস্কর্যে আগুন দিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ব্যাপক যানজটের কারণে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট শেইনবমও জাতীয় প্রাসাদে পৌঁছাতে পারেননি। এছাড়া মাদক সহিংসতার বিষয়ে সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ এনে গত রোববার আজতেকা স্টেডিয়ামের প্রধান সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয় এবং ব্যানার প্রদর্শন করে, যেখানে লেখা ছিল—‘ফিফা, চলে যাও।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে রাজধানীর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মেক্সিকো সরকার গত ৯ জুন ঘোষণা করে, ম্যাচের দিন মেক্সিকো সিটির সব স্কুলের ক্লাস বন্ধ থাকবে। এর আগে মে মাসে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাবর্ষ ছয় সপ্তাহ আগেই শেষ করার ঘোষণা দিলেও পাঁচ দিন পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে মাঠের ভেতরে শাকিরার পারফরম্যান্স আর জমকালো আয়োজনে ফুটবলাররা মেতে উঠলেও, মাঠের বাইরে মেক্সিকোর এই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই টুর্নামেন্টের গায়ে কিছুটা হলেও কালো দাগ ফেলে দিল।
সূত্র- ফক্স নিউজ
টিজে/এসএন