বিশ্বকাপে ফেভারিট তকমার কোনো সুবিধা দেখেন না এলিসন বেকার
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২৪ পিএম | ১২ জুন, ২০২৬
দলটা যখন ব্রাজিল, বিশ্বকাপের ফেভারিটদের তালিকায় এমনিতেই চলে আসে তাদের নাম। তবে এবার নিজেদের ফেভারিট মনে করছেন না আলিসন। ব্রাজিলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের মতে, এই তকমা সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি করে।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবারের আসরেও শক্তিশালী দলগুলোর একটি। কিন্তু বাছাই পর্বে যেভাবে খেলেছে তারা, তাতে এবারের আসরে তাদের খুব একটা সম্ভাবনা দেখছেন না কেউ কেউ। তবে ব্রাজিল সবসময়ই শিরোপার দাবিদারদের একটি। বিশ্ব মঞ্চে তাদের চেয়ে সফল নয় আর কোনো দল।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার চোটে পড়া আলিসন বিশ্বকাপ খেলার জন্য শতভাগ ফিট হয়ে উঠেছেন। নিউ জার্সিতে ব্রাজিল দলের হোটেলে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এবারের আসর দিয়ে ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে আত্মবিশ্বাসী তারা।
ফ্রান্স, স্পেন ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো যেখানে অনেক বেশি গোছানো, সেখানে ব্রাজিলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ৩৩ বছর বয়সী আলিসন বলেন, ফেভারিটের তালিকায় থাকা ‘কারও জন্যই (সাফল্যের) কোনো নিশ্চয়তা নয়।’ তার মতে, এটা উল্টো দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে কঠিন সময় কাটানো ব্রাজিল দলের ভেতরের পরিবেশ এখন বেশ ভালো উল্লেখ করে আলিসন বলেন, “যে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো, প্রথম ম্যাচে আপনি কোন অবস্থায় আছেন। আমরা প্রস্তুত।”
বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা, একুয়েডর, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের পেছনে থেকে পঞ্চম হয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল। বাছাইয়ের শেষ দুই ম্যাচের আগে কার্লো আনচেলত্তিকে কোচের দায়িত্ব দেয় তারা। ওই দুই লড়াইয়ে জয় ও পরাজয় একটি করে।
আলিসন বললেন, ইতালিয়ান এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর সবকিছু ভালো হতে শুরু করেছে ব্রাজিলের।
“গত চক্রটি (বাছাইপর্ব) ছিল কঠিন, সেটা আমরা গভীরভাবে অনুভব করছিলাম। তবে আনচেলত্তি আসার পর সবকিছু ভালো হতে শুরু করল। দলে তার দারুণ প্রভাব রয়েছে আর তিনি শান্তভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করে দেন।”
ব্রাজিল দলের সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে আছেন আনচেলত্তি। তাদের প্রথম বিদেশি প্রধান কোচ হিসেবে তার ফল মিশ্র হলেও, অনেকেই বিশ্বাস করেন, ব্রাজিলের দুই যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারবেন আনচেলত্তিই।
অনেকদিন ধরে রক্ষণভাগ বেশ ভোগাচ্ছে ব্রাজিলকে। বাছাই পর্বে ১৭টি গোল হজম করেছে তারা। আলিসন বললেন, ৬৭ বছর বয়সী আনচেলত্তি দলের রক্ষণভাগের উন্নতির দিকে বেশি জোর দিচ্ছেন।
“আমরা যে গোলগুলো হজম করেছি, তার কিছু এড়ানো যেত। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি, কারণ বিশ্বকাপ স্বল্প দৈর্ঘ্যের একটি টুর্নামেন্ট। আমরা জানি, দলের আক্রমণভাগের মানের কারণে গোল করার সুযোগ সবসময়ই তৈরি হবে।”
তৃতীয় বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন আলিসন। তিন বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলা গোলরক্ষকদের তালিকায় নিজের নাম তুলতে পেরে রোমাঞ্চিত কিনা, এমন প্রশ্ন করা হয় আলিসনকে। উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জেতা গোলরক্ষকদের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাতে চাওয়ার কথা।
আগামী রোববার মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল।
এমআর/টিএ