পুশ-ইন প্রতিহত করছে বিজিবি, সমাধান হবে কূটনৈতিকভাবে : শামা ওবায়েদ
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৪ এএম | ১৩ জুন, ২০২৬
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, রাতের অন্ধকারে পুশ-ইন করা বা এই ধরনের কাজ থেকে ভারত সরকার বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি। আমরা কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছি। কূটনীতির মধ্য দিয়ে আমরা এটা সমাধান করব।
শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে এ সংবর্ধনা দেয় সালথা প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, বিজিবি অত্যন্ত কঠিন ও শক্ত অবস্থায় আছে। ভারত থেকে যেসব পুশ-ইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা বিজিবি প্রতিহত করছে। ইতোমধ্যে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৩টি চিঠি গিয়েছে দিল্লিতে এই পুশ-ইন বন্ধ করার জন্য। যেকোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অবৈধ বা তাদের অবৈধ নাগরিকদেরকে ফেরত নেওয়ার জন্য বা ফেরত পাঠানোর জন্য একটা সুস্পষ্ট নীতিমালা আছে। একটা মেকানিজম আছে। আমরা আশা করব যে ভারত সরকার সেই মেকানিজম ও নীতিমালা অবলম্বন করবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো বাংলাদেশি ওখানে (ভারতে) অবৈধভাবে থেকে থাকে, তারা সেই নীতিমালা বা মেকানিজম ব্যবহার করে বৈধ পথে আমাদের সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে সেই বাংলাদেশিদেরকে ফেরত পাঠাবে। একইভাবে বাংলাদেশে যদি কোনো অবৈধ ভারতীয় থেকে থাকে, তাদেরকেও আমরা সেই নীতিমালা, মেকানিজম ব্যবহার করে তাদেরকে ফেরত পাঠাব। রাতের অন্ধকারে পুশ-ইন করা বা এই ধরনের কাজ থেকে ভারত সরকার বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি। আমরা কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছি। কূটনীতির মধ্য দিয়ে আমরা এটা সমাধান করব।
এর কিছুক্ষণ আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেশা। একটি পবিত্র পেশা। শুধু আপনার মেইনস্ট্রিম সংবাদমাধ্যম ছাড়াও সামাজিক গণমাধ্যম কিন্তু একটা মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম হিসেবে পরিণত হচ্ছে এবং মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যমে অনেক সময় অনেক মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন প্রকাশিত হচ্ছে। আর এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)-এর মধ্য দিয়ে, এআইকে ব্যবহার করে, প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দল, বিরোধী দল বা বিরোধী মত, বা যাকে পছন্দ না, তার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে সংবাদ তৈরি করে অনেক সময় প্রকাশ করা হয়। সেগুলোর বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার সোচ্চার আছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে দুর্ভাগ্যবশত সেরকম আইন এখনো প্রণয়ন হয়নি, বা আইন প্রণয়ন হলেও আইনের প্রয়োগটা নেই। একটা গুলি দিয়েও মানুষকে ঘায়েল করা যায়, একটা লাঠি দিয়েও মানুষকে ঘায়েল করা যায়। আবার একটা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেও মানুষকে অপমান করা যায়। সুতরাং এই মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে আমাদের সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সত্যকে যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং তারপরে পরিবেশন করতে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, একজন সঠিক, একজন সাচ্চা সাংবাদিকের মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে সমাজের পাশে দাঁড়ানো। সমাজে যা ঘটছে, রাজনীতিতে যা ঘটছে, দেশে যা ঘটছে, সেটা সত্য উদ্ঘাটন করে মানুষকে জানানো। আমরা বিভিন্ন সময় এখন দেখছি যে, এখন যারা বিরোধী দলে আছে, তাদের বিভিন্ন বট বাহিনী আছে। এই বট বাহিনী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আড়ালে একটা ফ্যাসাদ তৈরি করে, একটা মিথ্যার আড়াল নিয়ে, একটা মিথ্যার সুযোগ নিয়ে তারা অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের নিউজ করে। এগুলার বিরুদ্ধে আপনারা যারা উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতা করেন বা জেলা পর্যায়ে সাংবাদিকতা করেন, তাদের সোচ্চার হতে হবে।
সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ, সালথা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন সরকার, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার প্রমুখ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে প্রতিমন্ত্রী সালথা প্রেসক্লাবের একটি টিন-শেড ভবনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
কেএন/এসএন