© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানের জন্য কয়েকশ কোটি ডলার ছাড় করতে সম্মত আমিরাত: রিপোর্ট

শেয়ার করুন:
ইরানের জন্য কয়েকশ কোটি ডলার ছাড় করতে সম্মত আমিরাত: রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫০ এএম | ১৩ জুন, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ইরানের হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়।

কূটনীতিকদের মতে, আলোচনায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে বিদেশি ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানের তেল বিক্রি করা কয়েক শত কোটি ডলার ছাড় করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। 

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা চলতি সপ্তাহে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কেএএন নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
 
আরও কিছু সূত্র দাবি করেছে, পুরো প্যাকেজটি ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একাধিক আঞ্চলিক সূত্র জানায়, এই আর্থিক সমঝোতা কার্যকর হয়েছে একটি শর্তের ভিত্তিতে- ইরান আমিরাতের ওপর হামলা বন্ধ করবে।
 
এই অগ্রগতি এমন সময় এলো যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে বৃহত্তর আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায় চলছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রি করা অর্থের কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার ছাড়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
 
এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাও দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আগে এ ধরনের কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছিল।
 
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত অনুযায়ী, সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ মোজতাবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই বলেছেন, ‘ট্রাম্প ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ছাড় করতে সম্মত হয়েছেন, তবে তিনি এটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে চান না।’
 
অন্যদিকে চুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রতিবেদনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার বলেন, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ‘ভুয়া তথ্য’ ছড়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, ইরান কেবল তখনই অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে, যখন তারা তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করবে।
 
বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ শুধু ইরান-গালফ সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত আমিরাত বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে এই সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কিছু অনিশ্চয়তা ও পর্যবেক্ষণও রয়ে গেছে।
 
কূটনৈতিক মহল বলছে, চলমান আলোচনার ফলাফল আগামী কয়েক দিনে স্পষ্ট হতে পারে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন