যশোরের মণিরামপুর জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০২ পিএম | ১৪ জুন, ২০২৬
সরকারি মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, হাট ইজারা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনসহ তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জেলা জামায়াতের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পদ স্থগিত হওয়া অপর দুই নেতা হলেন- জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম ও পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন। শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ‘জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে’ এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিব লিটন ও ফারুক হোসেনকে দুই মাসের জন্য এবং মহিউল ইসলামকে তিন মাসের জন্য দলীয় পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা আমির ফজলুল হক সে সময় ঢাকায় অবস্থান করায় জেলা জামায়াতের এই সিদ্ধান্তটি বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ে শোনান উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান।
গত ৩০ এপ্রিল মণিরামপুরে হরিহর নদ খননের উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আহসান হাবিব লিটন ও মহিউল ইসলামও ছিলেন।
এই ঘটনার পর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক।
তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সংসদ নির্বাচনে মণিরামপুর আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন এলাকায় ব্যাপক প্রশাসনিক প্রভাব খাটাতে শুরু করেন। এছাড়া গরুর হাট ইজারায় অংশগ্রহণ ও প্রভাব বিস্তারের নামে অর্থ উপার্জনসহ তার নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায় কমিটি। একই সঙ্গে ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় এই তিন নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও মেলে।
পদ স্থগিতের বিষয়ে জানতে সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাই না।’
তবে ঘটনা নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও তদন্ত কমিটির প্রধান আরশাদুল আলম বলেন, ‘মণিরামপুরের তিন নেতাকে সাময়িকভাবে পদ স্থগিত করা হয়েছে।’ তবে সুনির্দিষ্ট কী কারণে এই পদক্ষেপ, তা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
টিকে