কুমিল্লায় আধাঘণ্টার বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে থাকে তিনদিন
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৫ পিএম | ১৫ জুন, ২০২৬
কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুর-দৌলতপুর সড়ক। সড়কটি ভিক্টোরিয়া কলেজ রোড নামে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তৈরি হচ্ছে খানাখন্দ। এছাড়াও গত তিনদিন আগে মাত্র আধাঘণ্টার বৃষ্টিতে সড়কে জমেছে হাঁটু পানি। যা এখনো পুরোপুরি সরেনি। এতে যান চলাচল ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কের জলাবদ্ধতা কখনোই নিরসন হবে না। কারণ, সড়কের তুলনায় দুই পাশের স্থাপনাগুলো উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নেই সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকে দু-চার দিন। জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি দ্রুত সড়ক সংস্কার দরকার।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন। শনিবার সন্ধ্যায় তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘সড়কের পাশে থাকা ড্রেনের কিছু অংশে ঢাকনা নেই। কোথাও কোথাও কাঠ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
দৌলতপুর এলাকার দোকানি আব্দুল হালিম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি দৌলতপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। যখন সড়কের তুলনায় দুই পাশের স্থাপনাগুলো উঁচু হয়ে গেল, তখন থেকেই সড়কে পানি জমা শুরু হয়েছে। যা এখনো নিরসন হয়নি। আধাঘণ্টা বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকে তিন থেকে চার দিন। পানি জমে থাকলে আমাদের চলাচলে ভোগান্তি হয় এবং সড়কটি আর ব্যবহার করা যায় না।’
আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শন করে গেছেন। আমাদের খাল ও ড্রেন পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আমরা তা পরিষ্কার করে দিয়েছি। তবে এখানে নগরী বেসিক, ছায়াবিতান ও অশোকতলা এলাকার পানি এসে জমে থাকে। পানি জমে থাকার অন্যতম বড় কারণ হলো, সড়কের দুই পাশের স্থাপনাগুলো উঁচু হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই।’

আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, ‘ধর্মপুর-দৌলতপুর সড়কে পানি জমে থাকা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার কাজ করেছি। এখানকার ড্রেন ও খালগুলো সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মহোদয়সহ আমরা পরিষ্কার করেছি। এখানে একটি হাউজিং প্রকল্প রয়েছে, যা জলাশয় ভরাট করে করা হয়েছে।
ফলে রাস্তাঘাটের উচ্চতা বেড়ে গেছে এবং ভিক্টোরিয়া কলেজসহ আশপাশের কিছু এলাকা নিচু হয়ে গেছে। এ কারণে পানি নিষ্কাশনে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে কাজগুলো করছি, সেগুলো স্থায়ী সমাধান নয়। কিছুদিন আগে যেদিক দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়, সেখানে কালভার্ট সংস্কার করে উঁচু করা হয়েছে, যাতে উঁচু এলাকার পানি নিচু স্থানে দ্রুত নেমে যেতে পারে। এটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা, তাই চাইলেই হঠাৎ করে এর সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আমরা স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
এসএন