চর দখল নিয়ে মেঘনা-তিতাসের সংঘর্ষে আহত ৩০
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪১ পিএম | ১৫ জুন, ২০২৬
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকার একটি চর দখলকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী তিতাস উপজেলার বাসিন্দাদের সাথে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।


সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা টেটা–বল্লম নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়। আহত ব্যক্তিদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া নহলে ২৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। গুরুতর আহত দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরটির মালিকানা ও দখল নিয়ে মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরা ও দুধঘাটা এলাকার বাসিন্দাদের বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ বাটেয়ারা মৌজার ১৪ দশমিক ৭৫ একর জমি ১৯৮৯-৯০ সালে ২৩টি দলিলের মাধ্যমে আলীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেন। অপরদিকে নতুন বাটেরা ও দুধঘাটা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তারা ১৯৯৯-২০০০ সালে একই এলাকার ১০ দশমিক ১৪ একর জমি ইজারা নিয়েছিলেন। এ বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান বিপ্লব শিকদার বলেন, ‘যে চরটি নিয়ে বিরোধ চলছে, সেটি মূলত আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সিএস ও আরএস রেকর্ডভুক্ত বাটেয়ারা মৌজার অংশ। তবে বিএস রেকর্ডে জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে চরটির দখলে রয়েছেন তিতাস উপজেলার চর বাটেরা ও চর কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। প্রশাসনিকভাবে চরটি এখন তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি মেঘনা উপজেলার অংশ হওয়ার কথা বলে তিনি দাবি করেন।’
এদিকে সংঘর্ষের পর দুই উপজেলার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নেন। তাঁদের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মেঘনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তিতাস থানার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা দুঃখজনক। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জমিটির প্রকৃত মালিকানা ও প্রশাসনিক অবস্থান যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসএন