কে এই ভোজিনহা? স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ নায়ক
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫২ এএম | ১৬ জুন, ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ম্যাচে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস, যিনি ফুটবল বিশ্বে বেশি পরিচিত ভোজিনহা নামে। তার নামের পেছনেও রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের ছোঁয়া। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে আলো ছড়ানো কিংবদন্তি রাইট ব্যাক জোসিমার এর ভক্ত ছিলেন তার বাবা। সেই কারণেই ছেলের নাম রাখেন জোসিমার।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক জর্জিয়ার আটলান্টা স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমে বিশ্বকাপে অভিষেক করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক বয়সী অভিষিক্ত খেলোয়াড় হন। তার চেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ অভিষেক হয়েছিল মিশরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম হাদারির, যিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে ৪৫ বছর বয়সে খেলেছিলেন।
বর্তমানে ভোজিনহা পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগ লিগা পর্তুগাল ২-এর ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলেন। তবে স্পেনের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল একেবারে বিশ্বমানের।

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেন ম্যাচজুড়ে ৭৪ শতাংশ বলের দখল রাখে এবং ২৭টি শট নেয়। কিন্তু ভোজিনহার দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের সামনে তারা গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচে তিনি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন এবং কেপ ভার্দেকে এনে দেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই স্মরণীয় ০-০ ড্র। স্পেনের বিপক্ষে তার এই পারফরম্যান্সে তিনি বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে ক্লিন শিট রাখা সবচেয়ে বয়স্ক গোলরক্ষকের রেকর্ডও গড়েন। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ভোজিনহাকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।
কেপ ভার্দে যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়, তখন অনেকেই মনে করেছিলেন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করাই দেশটির সবচেয়ে বড় অর্জন। কিন্তু ভোজিনহা দেখিয়ে দিয়েছেন, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি, লড়তেও এসেছে।
কেপ ভার্দের জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের এই ছোট্ট দেশটির জন্য স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করাও এক বিশাল সাফল্য। আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভোজিনহা।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় ভোজিনহা-ঝড়। ব্রাজিলের জনপ্রিয় সম্প্রচারমাধ্যম চেজ টিভির উপস্থাপকরা দর্শকদের তার ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করার আহ্বান জানান। ম্যাচের আগে যেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম, ম্যাচ শুরুর আগে কেপ ভার্দের গোলকিপার ভজিনহার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ছিল মাত্র ৪৫ হাজার, প্রথমার্ধ শেষে এটা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার। আর ম্যাচ শেষে সেটা হয়ে গেছে ১ মিলিয়ন। প্রতি রিফ্রেশেই এখনও বাড়ছে ফলোয়ার।
২০১২ সাল থেকে কেপ ভার্দের হয়ে খেলা ভোজিনহা বিশ্বকাপে আসার আগে ৮০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তার জাতীয় দলের হয়ে প্রায় ৯০তম উপস্থিতি। কেপ ভার্দের মিন্ডেলো শহরে জন্ম নেওয়া ভোজিনহার ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হয় স্থানীয় ক্লাব বাতুকে এফসি-তে। এরপর তিনি সিএস মিন্ডেলেন্সে, প্রগ্রেসো (অ্যাঙ্গোলা), জিমব্রু চিসিনাউ (মলদোভা), গিল ভিসেন্তে (পর্তুগাল), এইএল লিমাসল (সাইপ্রাস) এবং এএস ত্রেনচিন (স্লোভাকিয়া) এর হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি পর্তুগিজ ক্লাব চাভেসের গোলবার সামলাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘদিন পরিচিত মুখ হলেও বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই তিনি এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিলেন, যা কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসে বহুদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্পেনের বিপক্ষে সাত সেভ, ক্লিন শিট, আবেগঘন উদযাপন এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা ভোজিনহা এখন শুধু কেপ ভার্দের নন, ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প।
এমআর/টিকে