আলজেরিয়াকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি, চমক দেখাতে চান পেতকোভিচ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৩০ এএম | ১৭ জুন, ২০২৬
অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বুধবার মাঠে নামছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।তাদের সামনে প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচটি এমন দিনে খেলবে আর্জেন্টিনা, যার আগের দিন টানা চার ড্রয়ে হতাশায় ডুবেছে স্পেন, উরুগুয়ে, বেলজিয়ামের মতো দল।
প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি জানেন টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচই ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় না। যদিও সর্বশেষ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে সৌদি আরবের কাছে হেরেও পরবর্তীতে শিরোপা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা কাতারের মতো করে শুরু করতে চায়।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তাই প্রথম ম্যাচটি অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মানে, এটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রথম ম্যাচেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।’
এছাড়া সোমবার রাতের ড্র হওয়া চার ম্যাচের খবরও অজানা নয় স্কালোনির। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তাই সতর্ক তিনি, ‘বিশ্বকাপে কোনো দলই সহজ নয়। প্রতিটি দলই এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং আমরা আলজেরিয়াকে নিয়ে বেশ সতর্ক।’

এর আগে মাত্র দুইবার কোনো দেশ বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছে, ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৬২ সালে ব্রাজিল। তৃতীয় দল হিসেবে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কি না সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে স্কালোনি আত্মবিশ্বাসী তার দল যুক্তরাষ্ট্রে শিরোপা ধরে রাখবে, ‘আমরা সুনিশ্চিত ও আত্মবিশ্বাসী। আমরা এখানে আছি এবং খুব ভালো একটি মুহূর্তে রয়েছি।’
বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মেসিরা যে আটঘাট বেধে নেমেছে তা বলাই যায়। যুক্তরাষ্ট্রে দুই সপ্তাহ ধরে অনুশীলন করছে তারা। যেখানে দলের সঙ্গে সমানতালে নিজেকে প্রস্তুত করছেন আগামী সপ্তাহে ৩৯-এ পা রাখতে চলা মেসি। তবে এবার অনেকটাই নির্ভার আকাশী সাদা জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকা এই মহাতারকা। এছাড়া টানা ৬টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার হবেন তিনি।
কাতার বিশ্বকাপে লুসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে যতটা চাপ নিয়ে মেসি মাঠে নেমেছিলেন, তেমনাট কী আগে আর কখনও হয়েছিল? হয়ত না। ২০১৮ বিশ্বকাপে থেকে বাদ পড়ায় অবসরই নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ফিরলেন আরও একবার। তারপরের গল্পটা সবারই জানা। ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর সেই লুসাইলেই প্রথমবারের শিরোপা উঁচিয়ে ধরলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ওই একটা ট্রফির অপেক্ষাতেই ছিলেন তিনি।
মেসির ক্যারিয়ারে নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব ট্রফিই ছুঁয়ে দেখা হয়ে গেছে। তবে বিশ্বকাপ জেতার ক্ষুধা তাঁর মধ্যে এখনও আছে। টপ লেভেলে খেলার মতো ফিটনেসও যে আছে তার প্রমাণ তো গত সপ্তাহে আরও একবার দিলেন তিনি। যখন কি না আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২০ মিনিটে খেলেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে নিয়ে
স্কালোনি বলেন, ‘শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্বের মানুষ তাকে মাঠে দেখতে চায়। তার প্রভাব শুধু আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ওপরই নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের ওপরই রয়েছে।’
কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য কিছুটা চিন্তিত পায়ের পেশির চোটে পরা লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকোকে নিয়ে। তার জায়গায় ফাকুন্দো মেদিনা নাকি তিনজন ডিফেন্ডার নিয়ে ফর্মেশনের সাজাবেন তিনি সেটি ম্যাচের আগে বলার উপায় নেই। কেননা ম্যাচ পরিস্থিতি বিবেচনা করে একেক সময় একেক রকম সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে স্বস্তির খবর, হাতের আঙ্গুলে চিড় থাকা সত্ত্বেও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ খেলছেন।
এদিকে আট বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা আলজেরিয়াও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের রামি বেনসেবাইনি চোটে ছিটকে যাওয়ায় তাদের রক্ষণভাগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু ভ্লাদিমির পেতকোভিচের দলের আসল শক্তি তাদের আক্রমণভাগের গতি।
ম্যাচে ফোকাস থাকবে ৩৫ বছর বয়সী রিয়াদ মাহরেজের ওপরও। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটির তারকা পুরনো ছন্দে হয়ত নেই, তবে তার বাঁ পায়ের ক্ষুরধার পাসিং এখনো যে কোনো দলের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। তবে দলীয় প্রচেষ্টায় যে কোনো কিছু যে সম্ভব সেটি এখন পর্যন্ত হওয়া বিশ্বকাপের ১৬ ম্যাচই প্রমাণ করে, যেখানে ৮টি ম্যাচই ড্র হয়েছে।
ফিফা র্যাঙ্কিয়ে ২৮তম স্থানে থাকা আলজেরিয়া এক নম্বর দলের বিপক্ষে জেতার স্বপ্নের কথা বলছে না হয়ত, তবে বিশ্বকাপে যে সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে চায় এবং যত বড় শক্তিই হোক রুখে দিতে চায়। আলজেরিয়াও চায় অঘটন ঘটাতে।
দলটির কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এই ম্যাচে ফেভারিট নই। তবে বিশ্বকাপে আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি যে অঘটনা ঘটতে পারে এবং আমরাও তেমন একটি অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করব।’
আর্জেন্টিনাকে কু ডাক দিচ্ছে একটি অতীত ইতিহাস। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপ জেতার পরের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কখনোই জয় পায়নি আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৮২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আকাশি-সাদারা। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এবার তেমন কিছু হবে না তো?
এমআর/টিকে