© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চুক্তির পর হরমুজ পার হয়েছে মাত্র ৭টি জাহাজ: বিবিসি

শেয়ার করুন:
চুক্তির পর হরমুজ পার হয়েছে মাত্র ৭টি জাহাজ: বিবিসি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৫১ এএম | ১৭ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের চুক্তি ঘোষণার পরও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। 

জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার চুক্তি ঘোষণার পর থেকে এই জলপথ দিয়ে মাত্র সাতটি জাহাজ পার হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে গেছে।

বিবিসি ভেরিফাই জানায়, এই সময়ে প্রণালী অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং চারটি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ রয়েছে। ফলে ঘোষিত সমঝোতার পরও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত রয়ে গেছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্যানুযায়ী, সাতটি জাহাজের মধ্যে একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ট্যাংকার নিজের অবস্থান শনাক্তকারী ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে প্রণালী অতিক্রম করেছে। বাকি ছয়টি জাহাজ তাদের অবস্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু রেখেই গন্তব্যে রওনা হয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ ‘দিশা’ ছিল প্রণালীটি দিয়ে ট্রান্সপন্ডার চালু অবস্থায় প্রথম অতিক্রমকারী জাহাজ। বর্তমানে এটি আরব সাগর পেরিয়ে ভারতের গুজরাট রাজ্যের দাহেজ বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

বিবিসি ভেরিফাই এমন একটি ভিডিও পর্যালোচনা করেছে, যেখানে জাহাজটির হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি অনলাইনে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি কাছাকাছি থাকা অন্য একটি জাহাজ থেকে ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চুক্তি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক কম। মার্চ মাসের শুরু থেকে সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে এই সংখ্যা ছিল দৈনিক ১০০টিরও বেশি।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীর ভূমিকা অপরিসীম। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে স্বাভাবিক নৌ চলাচল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে স্বস্তি আনলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। বীমা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন