ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনও অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৬ পিএম | ১৭ জুন, ২০২৬
ইসরায়েল না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রেরও কোনও অস্তিত্ব থাকত না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তার এই মন্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। কারণ ট্রাম্প বলেছেন, আমি না থাকলে ইসরায়েলের কোনও অস্তিত্বই থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল টিকে থাকতে পারত না। ইসরায়েল নিয়ে ট্রাম্প এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিপরীতধর্মী এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ইসরায়েলে দেয়া এক বক্তব্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রেরও অস্তিত্ব থাকত না। ইহুদি ভিত্তি না থাকলে আমেরিকা থাকত না। আমেরিকার অস্তিত্বের পেছনে এই ভূমির ইতিহাসের বড় অবদান রয়েছে।’
মূলত ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য এমন এক সময়ে করলেন যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছেন এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরছেন।
একইসঙ্গে হাকাবির বক্তব্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও পুরো বিপরীত। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন। মার্কিন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার জন্য অন্য কোনও প্রেসিডেন্ট রাজি ছিলেন না।’
এদিকে জেনেভায় আগামী শুক্রবার নির্ধারিত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা আরও পোক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে ‘পাগলামি’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবারই একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই।’
টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন পাওয়া মাইক হাকাবি একজন ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক এবং আরকানসাসের সাবেক গভর্নর। ইসরায়েলের স্বার্থকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
রক্ষণশীল সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক আলোচিত সাক্ষাৎকারে হাকাবি অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের ভূখণ্ড সম্প্রসারণমূলক অবস্থানের প্রতি সমর্থনও জানান।
এমনকি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজের দেশের সেনাবাহিনীরও সমালোচনা করেন। বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হাকাবি দাবি করেন, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর তুলনায় ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় বেশি মানবিক ও সতর্ক।
এছাড়া তিনি জোনাথন পোলার্ডের সঙ্গে নিজের বৈঠকের পক্ষেও অবস্থান নেন। জোনাথন পোলার্ড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং তিনি ইসরায়েলের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
এসকে/টিকে