© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন অবকাঠামো করছে আমিরাত

শেয়ার করুন:
হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন অবকাঠামো করছে আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:১২ পিএম | ১৮ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে নতুন অবকাঠামো তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে নতুন পাইপলাইন, বন্দর এবং রেলপথ।

আমিরাতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী থানি আল জেইউদি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইসলামাবাদ এমওইউ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এখন ইরান হরমুজ প্রনালি থেকে অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আর কোনো বাধা নেই।

কিন্তু তারপরও এই নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কারণ প্রসঙ্গে আমিরাতের কর্মকর্তরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার কথা থাকলেও, আগের মতো বিনামূল্যে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে কি-না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ ইরান বারবার বলেছে যে তারা হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ফি আদায় করবে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের ভেতরের দিকের দেশ, যেমন কাতার, কুয়েত এবং ইরাককে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে বাধ্য হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেমন সমস্যা নেই। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলো প্রণালি বাইরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত চলার সময় এই বন্দরগুলো আমিরাতকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।

থানি আল জেইউদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে এই বন্দরগুলোর উন্নয়ন এবং নতুন অবকাঠামো তৈরিতে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবুধাবি।

“হরমুজ খোলা থাকুক আর না থাকুক— তাতে কিছু যায়-আসে না। আমরা হরমুজের ওপর নির্ভরশীলতা শূন্যে নামিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছি। হয়তো শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে, কিন্তু আমরা আমাদের কাজ করে যাব”, ব্লুমবার্গকে বলেন আমিরাতের বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়, যার জেরে হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম।

গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো— বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেবে ইরান।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের সময় প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর অবকাঠামো এবং সেসব দেশে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সে সময় সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার হয়েছে আমিরাত। দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, এবং অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ইরানের হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ-প্রতিশ্রুত নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতা আমিরাতের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া এ যুদ্ধ সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ককেও তলানিতে নিয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় পূর্বাঞ্চলীয় ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করত আমিরাত। এজন্য একটি পাইপলাইনও বসানো হয়েছিল।  

থানি আল জেইউদি বলেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় আরও দুই বন্দর দিব্বা এবং খোর ফাক্কান পর্যন্ত পাইপলাইন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাতের সরকার। বন্দরগুলোর সংস্কারকাজও শুরু হচ্ছে শিগগিরই।

আল জেইউদি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত তার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অন্তত আরও দুটি পাইপলাইন তৈরি করবে এবং পরিবহন সহজ করার জন্য অন্তত একটি রেললাইন নির্মাণ করবে।

আমদানির জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরীয় বন্দর জেবেল আলীর ওপর নির্ভরশীল। জেবেল আলী বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বন্দর হওয়ায়। এই বন্দরের গুরুত্ব হ্রাস করে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে স্থানান্তর করা নিশ্চিতভাবেই একটি বিশাল উদ্যোগ হবে এবং তা কতটা বাস্তবসম্মত হবে- সে সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, “পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে আছে, আমরা এগিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করছি। এই কঠিন সময়ে, আপনি সবসময় আপনার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং সেগুলোর ওপর কাজ শুরু করতে হবে।”

সূত্র : ব্লুমবার্গ, ফার্স্টপোস্ট 

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন