তারুণ্যের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২২ পিএম | ২১ জুন, ২০২৬
শ্রদ্ধা, গান, কবিতা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোববার মোংলার মিঠাখালীতে একুশে পদকপ্রাপ্ত তারুণ্যের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
সকাল ৯টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শোভাযাত্রা শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে কবির বাড়িতে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
সকাল ১০টায় রুদ্রের বাড়িতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সাংবাদিক সুমেল সারাফাত। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি ও মিঠাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান। বক্তারা বলেন, রুদ্র ছিলেন তারুণ্য, প্রতিবাদ ও সংগ্রামের প্রতীক। বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কবিতা আজও প্রাসঙ্গিক। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন রুদ্র তার কবিতা ও গানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন।
প্রসঙ্গত, মাত্র ৩৫ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবন-সীমায় রুদ্র রচনা করেন সাতটি কাব্যগ্রন্থ-‘উপদ্রুত উপকূল’ (১৯৭৯), ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ (১৯৮১), ‘মানুষের মানচিত্র’(১৯৮৪), ‘ছোবল’ (১৯৮৭), ‘গল্প’ (১৯৮৭) ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’ (১৯৮৮) এবং ‘মৌলিক মুখোশ’(১৯৯০)। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে অবলম্বন করে তিনি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ নামে একটি কাব্যনাট্যও রচনা করেন। এছাড়া তিনি বেশ কিছু গল্প লিখেছেন।
মাত্র ৩৫ বছরের জীবনে রুদ্র সাতটি কাব্যগ্রন্থ, একটি কাব্যনাট্য এবং বেশ কিছু গল্প রচনা করেন। তার লেখা ও সুর করা ‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানটি দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৮৭ সালে তসলিমা নাসরীনের সাথে বিচ্ছেদের পর মোংলায় বসে তিনি এ গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তিনি মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।
টিকে/