© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৩১ পিএম | ২২ জুন, ২০২৬
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রীস্মকালীন অবকাশ শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এমনকি নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে তার দল লেবার পার্টিকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীদের তালিকা তুলে হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহাম সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এঞ্জেলা রায়নারসহ বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি অ্যান্ডি বার্নহ্যামের। জনমত জরিপ বলছে, লেবার পার্টির এমপির মধ্যে সাধারণ ভোটারদের কাছেও তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। প্রায় এক দশক ধরে বার্নহাম গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ঝুলিতে দীর্ঘকালের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এজন্য তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবেও পরিচিত। সবশেষ গত শুক্রবার তিনি পার্লামেন্টের একটি আসনে জয় পান। এর মাধ্যমে তিনি লেবার পার্টি নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ের জন্য তার অন্তত ৮১ এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে। শুক্রবারে জয়ের মাধ্যমে কিনি পার্লামেন্টে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি লি আসনের এমপি ছিলেন। ওই সময়ে কিনি স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বার্নহ্যাম এর আগে আরও দুবার দলীয় প্রধান হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিলেন। এরমধ্যে ২০১০ সালে এড মিলিব্যান্ডের কাছে এবং ২০১৫ সালে জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন তিনি।

ওয়েস স্ট্রিটিং

২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ওয়েস স্ট্রিটিং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত মে মাসে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ দায়িত্ব পালনের আগে তিনি তিন বছর বিরোধী দলে থাকাকালীন ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

স্ট্রিটিং ২০১৫ সালে তিনি প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ স্টুডেন্টসের প্রেসিডেন্ট এবং লন্ডনের কাউন্সিলর ছিলেন। বর্তমান তাকে দলের বাকপটু ও বিচক্ষণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এনএইচএসের ওয়েটিং লিস্ট বা চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে আনাকে তার অন্যতম সাফল্য।

দলের মধ্যপন্থি ও ডানপন্থি এমপিদের মধ্যে তার ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তবে দলের ভেতর তার ‘ডানপন্থি’ ভাবমূর্তির কারণে সাধারণ সদস্যদের কাছে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে পারে।

অ্যাঞ্জেলা রায়নার

অ্যাঞ্জেলা রায়নার যুক্তরাজ্যের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবীদ। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। এমনকি কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। রাজনীতিতে তার এ উত্থান অবিশ্বাস্য ঘটনা।

একজন কেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করার সময় ‘ইউনিসন’ ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। এটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তিনি ২০১৫ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অ্যাশটন-আন্ডার-লাইন আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি জেরেমি করবিনের ছায়া মন্ত্রিসভায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময়ে তিনি ছায়া সরকারের আবাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গৃহনির্মাণ বৃদ্ধি ও ভাড়াটেদের অধিকার আমূল সংস্কারের ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন।

২০২৫ সালে রায়নার নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন। এ সময়ে কার বিরুদ্ধে একটি বাড়ি কেনার সময় যথাযথ ট্যাক্স পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।

অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী

যুক্তরাজ্যের এসব হেভিওয়েট নেতা ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছেন। এরমধ্যে সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও রয়েছেন। যদিও তিনি এ সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বিবিসিকে বলেন, আমার জন্য সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নামও আলোচনায় আছে। তবে অভিবাসন নীতি নিয়ে তার কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ফলে সাধারণ সদস্যদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং সাবেক রয়্যাল মেরিন কর্মকর্তা আল কার্নসকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি 

টিকে/

মন্তব্য করুন