© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিস্ফোরণতৃণমূল থেকে মমতাকে অপসারণ, অভিষেককে বহিষ্কার

শেয়ার করুন:
তৃণমূল থেকে মমতাকে অপসারণ, অভিষেককে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫৯ পিএম | ২২ জুন, ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করা বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির শিবির নতুন দলীয় কমিটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে পরিচিত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করার কথাও জানিয়েছে তারা।

এদিকে দলের সর্বভারতীয় কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক মন্ত্রী তথা মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে বেছে নেয়া হয়েছে। সহ-সভাপতি হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামানকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

কয়েকদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত ব্যানার্জিকে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল। এর কয়েকদিনের মধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্রোহীরা ‘আসল তৃণমূল’ নামে নতুন দলীয় কমিটি গঠন করে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ঋতব্রত শিবিরের এক বৈঠক থেকে মমতাকে সরিয়ে দেয়ার এবং অভিষেককে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়। তাদের দাবি, এতে ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার ৭০ জন কাউন্সিলর অংশ নেন।

এই বৈঠকে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন চেয়ারপারসন ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হন বলে দাবি করেছে বিদ্রোহী শিবির। তাদের ভাষ্য, সংগঠনের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া ‘সাংবিধানিক সংকট’ মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর জাতীয় কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন করতে হয়। সর্বশেষ এমন কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাংগঠনিক কাঠামো নবায়ন করা হয়নি। তাই দলের জাতীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।’

এদিকে সর্বশেষ এই ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন কার্যত তিনটি শিবিরে বিভক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল, দ্বিতীয়টি ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’। ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন অংশটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে দলের প্রায় দুই ডজন লোকসভা সদস্য অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির সঙ্গে একীভূত হয়েছেন এবং পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দিচ্ছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণার পর তৃণমূলের প্রকৃত নেতৃত্ব কার হাতে এবং দলটির আদর্শিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব কে করছে- সে প্রশ্ন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবিতে তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি রুপির দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। বাজেট অধিবেশন শেষেই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এ ব্যানারে শহরের পাঁচতারা হোটেলে সাংগঠনিক বৈঠকে বসে বিদ্রোহী বিধায়কেরা। বৈঠকে দলের নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূলের নাম।

প্রতীক হিসেবে ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুলের প্রতীক। কিন্তু সেখানে মমতার ছবি ছিল না। এর পরিবর্তে ব্যানারে কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধীর ছবি ব্যবহার করা হয়।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন