© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভূমি অফিস নিয়ে বিতর্কিত প্রতিবেদনের জবাব দিল লোহাগাড়া প্রশাসন

শেয়ার করুন:
ভূমি অফিস নিয়ে বিতর্কিত প্রতিবেদনের জবাব দিল লোহাগাড়া প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫০ এএম | ২৩ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। অফিসটির দাবি, প্রতিবেদনে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন স্বাক্ষরিত এক লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘লোহাগাড়ায় তদবির ছাড়া এগোয় না ফাইল’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ভূমি অফিসে সেবা পেতে তদবির বা অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ, সরকারি নথি, অভিযোগকারীর পরিচয় কিংবা দালিলিক উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য যথাযথভাবে নেওয়া ও যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে যে তথ্য ও মন্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর কয়েকটির সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই বলে দাবি করেছে ভূমি অফিস।

বিশেষ করে প্রতিবেদনে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নামে প্রকাশিত বক্তব্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মং এছেন বলেন, সংবাদে যে বক্তব্য তার নামে উদ্ধৃত করা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আলাপ বা সাক্ষাৎকার হয়নি। ফলে প্রতিবেদনে তার নামে প্রকাশিত মন্তব্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

প্রতিবেদনে ভূমি অফিসের কর্মচারীদের বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনে যার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেই কর্মচারী রবিউলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কোনো কথোপকথন হয়নি।

এছাড়া সার্ভেয়ার-কাম-কানুনগো নূরে আলমের বক্তব্যের বিষয়ে ভূমি অফিস জানায়, একজন সাংবাদিক তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন। তবে নূরে আলম ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য না করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা অনুসরণ করে অফিস প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। এতে বলা হয়, সাংবাদিকের নিজের বা সাধারণ জনগণের কোনো ভূমি-সংক্রান্ত আবেদন বা কাজ না থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অফিসে অবস্থান করতেন, যা দপ্তরের কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

ভূমি অফিসের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভূমি সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তথ্য-প্রমাণবিহীন অভিযোগ প্রচারিত হলে জনসাধারণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সেবা কার্যক্রমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গঠনমূলক সমালোচনা ও প্রকৃত অনিয়মের তথ্য প্রকাশকে তারা স্বাগত জানায়। তবে কোনো অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথ তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং সাংবাদিকতার পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি।

একই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জনসম্মুখে তুলে ধরে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন।

এসএন 

মন্তব্য করুন