© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কাঁচা দুধ, গরুর কলিজাসহ কী কী খেয়ে নিজেকে ফিট রাখেন হালান্ড?

শেয়ার করুন:
কাঁচা দুধ, গরুর কলিজাসহ কী কী খেয়ে নিজেকে ফিট রাখেন হালান্ড?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৯ পিএম | ২৪ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে চার গোল করে হালান্ড ইতোমধ্যে পুরো বিশ্বকে জানান দিয়েছেন তারাও বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের জন্যেই এসেছেন। মাঠে দৈত্যাকার দেহ নিয়ে গতির ক্ষিপ্রতায় প্রতিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে দেন এই ম্যানসিটি তারকা। তাই সবার মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে কীভাবে নিজেকে এত ফিট রাখছেন হালান্ড?

হালান্ডের অন্যতম গোপন রহস্য একটি অতিরিক্ত উচ্চ-ক্যালরির খাদ্যতালিকা৷ নিজের পানি পরিশোধন ব্যবস্থা বহন করা থেকে শুরু করে মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানো এবং নীল আলো প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার; নরওয়েজিয়ান তারকার বিশ্বাস, 'ঘুমই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।'

বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে বিবেচিত আরলিং হালান্ড মাঠে সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন শরীর ও মনের বিশেষ যত্ন নেন। তার অন্যতম অভ্যাস হলো প্রতিদিন প্রায় ৬,০০০ ক্যালরির খাদ্য গ্রহণ, যার মধ্যে রয়েছে গরুর হৃদপিণ্ড (বিফ হার্ট), কলিজা এবং কাঁচা দুধ। এসব খাবার অত্যন্ত পুষ্টিকর, উচ্চ জৈবমানসম্পন্ন এবং শরীরে সহজে শোষিত হয়।

অনুশীলন বা ম্যাচের বাইরের সময়ে ২৫ বছর বয়সী এই তারকা মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমান, নীল আলো প্রতিরোধী বিশেষ চশমা পরেন এবং নিজের ঘরের সব ধরনের ইলেকট্রনিক সংকেত ও আলো বন্ধ রাখেন। এর পাশাপাশি তিনি পান করা সব পানি বিশেষ ফিল্টারের মাধ্যমে পরিশোধন করেন।

এই রুটিন বেশ কার্যকরও হয়েছে। ২৮ বছর পর নরওয়েকে আবার বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার পেছনে সরাসরি অবদান রাখা হালান্ড চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর প্রথম দুই ম্যাচে চারটি গোল করেছেন, যার মধ্যে দুটি ছিল গত সোমবার সেনেগালের বিপক্ষে নরওয়ের ৩-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে। ফলে ফ্রান্সের সঙ্গে নরওয়েরও আগেভাগেই দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত হয়েছে, আর সেই সাফল্যে হালান্ড ছিলেন অন্যতম প্রধান কারিগর।

হালান্ড বলেন, 'আমি আমার শরীরের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমার মতে, যতটা সম্ভব স্থানীয় উৎসের ভালো মানের খাবার খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকে অনেক বিষয় প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ বলে মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। ঠিক আছে, কিন্তু কোন মাংস? ম্যাকডোনাল্ডসের মাংস, নাকি স্থানীয় খামারের গরুর মাংস?'

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যান সিটির এর হয়ে ৩৫ ম্যাচে ২৭ গোল করে ক্যারিয়ারের তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে যোগ দেন তিনি। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতি তার এতটাই মনোযোগ যে, তাকে নিয়ে নরওয়ের স্ট্রিমিং সেবা ভায়াপ্লে-তে 'হালান্ড দ্যা বিগ ডিসিশন' নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে। সেখানে তিনি নিজের দৈনন্দিন জীবন, রান্নার কিছু পদ্ধতি এবং ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

হালান্ড বলেন, 'আমার মনে হয় ঘুম পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভালো ঘুমানোর জন্য আমি বিশেষ চশমা ব্যবহার করি যা নীল আলো প্রতিরোধ করে এবং ঘরের সব আলো বন্ধ করে দিই। আপনারাও চেষ্টা করতে পারেন, এমনকি মুখ ঢেকেও ঘুমাতে পারেন। আমি এভাবেই ঘুমাই।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'ঘুমানোর আগে অনেক কিছু করা ভালো নয়। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিন ছোট ছোট ভালো অভ্যাস অনুসরণ করাই আসল লাভজনক বিষয়।'

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও তার একটি বিশেষ অভ্যাস রয়েছে। তিনি বিছানা থেকে উঠেই সূর্যের আলো খোঁজেন, যেখানে থাকুন না কেন। তার ভাষায়, 'চোখে সামান্য সূর্যের আলো লাগা আমার সার্কাডিয়ান রিদমের জন্য ভালো।' এখানে তিনি শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা দৈনন্দিন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী প্রাকৃতিক ছন্দের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে নরওয়ে ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রেন্সবোরাতে অবস্থান করলেও, তিনি সব সময় বহুস্তরবিশিষ্ট পানি পরিশোধন ব্যবস্থা সঙ্গে বহন করেন, যাতে যতটা সম্ভব বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন।

এতসব অভ্যাস ও মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে গ্রুপ ‘আই’-এ শীর্ষস্থান নির্ধারণী ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় ম্যাচেও হালান্ডই হবেন নরওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

দুই দলেরই বর্তমানে ৬ পয়েন্ট রয়েছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে নরওয়ের জয় প্রয়োজন, আর বর্তমান বিশ্বকাপ রানার্সআপ ফ্রান্সকে-কে হারানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামবে তারা।

টিকে/

মন্তব্য করুন