© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি করার প্রস্তাব ফজলুর রহমানের

শেয়ার করুন:
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি করার প্রস্তাব ফজলুর রহমানের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০৯ এএম | ২৬ জুন, ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে এক টাকা হলেও বেশি করার প্রস্তাব করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে ফজলুর রহমান হাওরের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয়, মাজারের সুরক্ষা এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি জানান।

ফজলুর রহমান বলেন, বিশাল বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন করছেন। আপনারা নির্বাচনের সময়ও মনে করেছিলেন আমরা (বিএনপি) বোধহয় পারব না।

বাজেটে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বরাদ্দে বৈষম্য রয়েছে বলে অভিযোগ করে ফজলুর রহমান বলেন, ভাত এবং তরকারির যেমন সম্পর্ক; শিক্ষা এবং সংস্কৃতির ঠিক তেমন সম্পর্ক। শিক্ষা বাজেট অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু সংস্কৃতির বাজেট খুব বেশি পরিপূরক হয়েছে বলে মনে হয় না। একটাকে অনাহারে রেখে আরেকটা খুব সুন্দরভাবে চলতে পারে না। কারণ, শিক্ষার সঙ্গে যদি সংস্কৃতির সঠিক মিলন না হয় তাহলে এখানে সভ্যতা গড়ে উঠবে না। 

ডানপন্থিদের প্রতি ইঙ্গিত করে ফজলুর রহমান বলেন, গ্রামে গঞ্জে আমাদের ছোটবেলায় হিন্দু ধর্মের দুর্গাপূজা যখন আসত, যখন গ্রামে গ্রামে নাটক করতাম, এটা তারা পছন্দ করে না। কৃষক যখন শীতকালে ধান লাগিয়ে পরে যাত্রা গান দেখতে যেত চাদর গায়ে দিয়ে, সেই রূপবানের গান বলেন, আর মা মাটি মানুষ বলেন, এটাকে উনারা পছন্দ করেন না। এখন দেখি বলছে ফুটবল খেলা যারা দেখবে এরা কাফের। আর্জেন্টিনার খেলা দেখা যাবে না। ব্রাজিলের খেলা দেখা যাবে না। তারা আমাদের মধ্যযুগে ফেরত নিতে চায়। বর্বরতার দিকে নিয়ে যেতে চায়। সেই বর্বরতার দিকে কী আমরা যাব।

বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে ফজলুর রহমান বলেন, আমরা যদি তাদের সাথে মিলেমিশে থাকি, এটাকে বলে ফ্রেন্ডলি গেম। যে মেসি শ্রেষ্ঠ, পাঁচটা গোল করেছে। যে রোনালদো কালকে দুইটা গোল করেছে, তাদের আপনি ঢাকার মাঠে আনেন। মানুষ যদি জানে ফ্রেন্ডলি গেম, তাহলে একদিন খেলা দেখতে যাবে। দ্বিতীয় দিন আর ফ্রেন্ডলি গেম খেলতে যাবে না। সংসদে যে গেমটা হচ্ছে, এই গেমটায় কিন্তু কিছুদিন পরে মাঠ খালি পড়ে থাকবে। কথাটা আমি বললাম।

ফজলুর রহমান বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২৫ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানকে প্রশংসা করি। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা ঠিক আছে। এরপরে বাজেটে লেখা হয়েছে, এ, বি, সি ক্যাটাগরিতে আহতদের ভাতা যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার এবং ১০ হাজার টাকা। কোনও কারণেই মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারো সম্মানী ভাতার তুলনা হতে পারে না। যদি হয়, তাহলে পাঁচ বছর পরে আমাদের খেসারত দিতে হবে।

ফজলুর রহমান বিএনপির এমপিদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, অন্তত ৯৯ শতাংশ বিএনপির এমপিকে বলতে হয়েছে, আমরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের দল, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। আর তারা (জামায়াত জোট) বলছে, তারা জুলাইয়ের পক্ষে এবং সৎ নেতৃত্বের পক্ষে, সৎ রাজনীতির পক্ষে। জুলাইকে অসম্মান করছি না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কাউকে তুলনা করলে কিন্তু পাঁচ বছর পরে আর উত্তর দিতে পারবেন না। কাজেই আমি আজকে বলছি এক টাকা হলেও মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা বাড়াতে হবে। বেশি করতে হবে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাওরে ছয় হাজার কোটি টাকার উড়াল সড়ক প্রকল্প বাতিলের সমালোচনা করেন ফজলুর রহমান। এ প্রকল্প আবার চালু করা যায় কি না অথবা আরো কম টাকায় হাওরে রাস্তা নেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করার প্রস্তাব করেন তিনি। 

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে রামমন্দির নির্মাণে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি সংগঠনের বাধার বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, প্রত্যেকদিন স্লোগান হচ্ছে, এটা চাই না, ওটা চাই না। পলাশবাড়িতে দেখা যাচ্ছে ৮১ ফুট রাম মন্দির হচ্ছে। প্রত্যেকদিন মিছিল হচ্ছে। রাম মন্দির চাই না মালাউনেরা দেশ ছেড়ে চলে যাও মিছিল করছে। তাদের পোশাকটা দেখলেই বুঝি তারা কারা। সেই পোশাকের লোকজনদের সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে। এমন বাড় বেড়েছে, তারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা সংস্কৃতি শুনতে চায় না। ধর্মকে নিয়ে শুধু ব্যবসা করতে চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি মনে করেন মন্দির ওখানে করা ঠিক না বা রাম মূর্তি করা ঠিক না, বন্ধ করে দেন। কিন্তু আমি মনে করি ও ১০০ না ৩০০ মূর্তি বানাক, আমি মুসলমান আমার এলো গেলো তাতে। আমি তো ওটার দিকে তাকাই না। আমি প্রয়োজনে ২৫ তলা মসজিদ করব। অসুবিধা কী। ও ওর মন্দিরে পূজা করবে আমি আমার মসজিদে নামাজ পড়ব অসুবিধা কী। একসঙ্গে কি আমরা থাকব না।

মাজারে হামলার বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী, হযরত শাহজালাল, শাহপরাণ, কেল্লা শাহ, বায়েজিদ বোস্তামী, খান জাহান আলী থেকে অলি আউলিয়া, গাউস কুতুব দরবেশরা তো এদেশে এসে বলেছেন, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। এর নাম সুফিবাদ। সেই সুফিবাদকে তো তারা মানে না। তারা তো মাজার ভেঙে ফেলতে চায়। মাওলানা মৌলভী সাহেবদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু পীর সাহেবদের দোষটা কী।

এমআই/টিএ


মন্তব্য করুন