বাজেট নিয়ে এবার ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি : সংসদে জয়নুল আবদীন
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫২ পিএম | ২৭ জুন, ২০২৬
বিগত সময়গুলোর মতো এবারের বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানবো না’ স্লোগান ওঠেনি মন্তব্য করে একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক। তিনি বলেন, সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বক্তব্যের শুরুতে ‘সুন্দর বাজেট’ দেওয়ায় অর্থমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান জয়নুল আবদীন ফারুক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে আজকের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন— ‘শেখ হাসিনা ভোট চোর’। আজ একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের অর্থমন্ত্রী, সংসদ নেতা তারেক রহমানের পরিচালনায় ক্যাবিনেট থেকে পাস করা একটি চমৎকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
বাজেট নিয়ে বিরোধীদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে ফারুক বলেন, বহু বাজেট দেখেছি, কিন্তু এবার আমার একটা জিনিস ভালো লেগেছে যে, বাজেট উপস্থাপনের পর ‘মানি না, মানবো না’ আওয়াজটা আসেনি। সমালোচনা আপনারা করুন, জবাব আমরা দেব। কিন্তু সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে।
অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক বক্তব্যের জবাবে ফারুক একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ইসলাম নিয়ে কথা বলার দরকার নাই। নিজেরাই বিচার করেন, আপনারা ৭১ সালে কোথায় ছিলেন? স্বাধীনতার একদিন আগে কারা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছিল? কারা দেশকে বুদ্ধিশূন্য করতে চেয়েছিল—বিষয়গুলো নজরে আনতে হবে।’
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি ’৭১-কে ভোলা যাবে না মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রীর কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর জোর দাবি জানান ফারুক। তিনি বলেন, ‘অন্তত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাটা বাড়িয়ে দিন, যাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আপনার নাম লেখা থাকে।’
বাজেটে বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের প্রশংসা করে সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত করার বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি নারী সমাজের উন্নয়ন ও তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণে বাজেটের নির্দেশনার প্রশংসা করেন ফারুক। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই সংসদ যৌথভাবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে ফারুক বলেন, বিগত ১৬ বছর যারা দেশ শাসন করেছে তারা গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে, মানুষকে নিষ্পেষিত করেছে। গত ১৭ বছরে ইলিয়াস আলীসহ অনেকে গুম হয়েছেন। আসুন সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই মিলে দেশ গড়ি। বাংলাদেশ সবার আগে।
কেএন/টিকে