© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জঘন্য বিশ্বকাপ, পেশাদার টুর্নামেন্টে এসব মেনে নেওয়া যায় না: ইরান অধিনায়ক

শেয়ার করুন:
জঘন্য বিশ্বকাপ, পেশাদার টুর্নামেন্টে এসব মেনে নেওয়া যায় না: ইরান অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৩ পিএম | ২৭ জুন, ২০২৬
চলমান ফিফা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই একের পর এক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির যুদ্ধপরিস্থিতি চলমান থাকায় আসর শুরুর আগেই চরম ভিসা জটিলতায় পড়তে হয় তাদের। এছাড়া প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য নির্ধারিত টিকিট বিক্রির স্বত্ত্বও পায়নি ইরান। এবার বিশ্বকাপের মধ্যে ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হচ্ছে ইরানকে। সবকিছু মিলিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ইরানের খেলোয়াড়রা। আজ (২৭ জুন) গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইরান অধিনায়ক।

রাসরি ফিফা ও আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। বিশ্বকাপের মতো পেশাদার টুর্নামেন্টে এমন অব্যবস্থাপনা মেনে নেয়ার মতো নয় বলেও মন্তব্য করেন তারেমি।



তারেমির ক্ষোভ অবশ্য অযৌক্তিক নয়। গ্রুপ পর্বে ইরানের সবগুলো ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হলেও যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে তাদের ক্যাম্প করতে হয়েছে মেক্সিকোতে। কথা ছিল, প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং ম্যাচের পরদিন মেক্সিকো ফিরবে। পরে ফিফা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে ইরানকে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনার পর ফিফা জানায়, ম্যাচের আগের দিন এসে ম্যাচ শেষে তাদের আবার চলে যেতে হবে। ইরান দলের অনেক স্টাফ পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও। এমন পরিস্থিতি ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে তারেমির।

তিনি বলেন, 'এটা জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি।নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, “এটি তো কেবল শুরু...।” অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তারা ভিসা পাননি।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কেন বারবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হবে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা খুবই বিনয়ী এবং আমরা তাদের পছন্দ করি। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

ইরানের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে দাবি করে তারেমি বলেন, ‘এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে; আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য করার মতো কোনো লজিস্টিক স্টাফ এখানে নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’
 
ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেমি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। লোকে কী চায়, আমি জানি না।তবে আমাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে, হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটাই পছন্দ করছে...তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আমাদের আবার তিহুয়ানায়ায় ফিরে যেতে হবে কেন?’  
 
আজ মিশরের সঙ্গে ড্র করার পর গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হয়েছে ইরান। নকআউট বা শেষ বত্রিশের টিকিট পেতে হলে এখন তাদের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইরানের।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন