নীরবে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি, দায়ী হতে পারে আপনার এই ৭ অভ্যাস
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৫ পিএম | ২৮ জুন, ২০২৬
হৃদরোগের আগে সব সময় শরীর সতর্ক সংকেত দেয়—এমন ধারণা অনেকেরই। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি ভিন্ন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হৃদরোগের ঝুঁকি ধীরে ধীরে তৈরি হয়, আর শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণও প্রকাশ পায় না। বরং আমাদের প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই অজান্তে হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা সময়ের সঙ্গে গুরুতর হৃদরোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা
অফিসের কাজ, যানজট কিংবা মোবাইল ও কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকলে রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি বাড়তে পারে ওজন, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনরুদ্ধার করে। নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে মানসিক চাপ ও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
প্যাকেটজাত খাবার, ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি লবণ থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, ফলে হৃদপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাই তাজা ও ঘরে তৈরি খাবার বেছে নেওয়াই ভালো।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
কাজের চাপ, পারিবারিক দুশ্চিন্তা কিংবা ব্যক্তিগত নানা কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকেন। এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান, প্রিয় কাজ বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নিয়মিত খাবার না খাওয়া
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে কোনো না কোনো বেলার খাবার এড়িয়ে যান। এতে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা
হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে কঠিন ব্যায়ামই একমাত্র উপায় নয়। প্রতিদিন হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি ব্যবহার করার মতো সাধারণ অভ্যাসও রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান
ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তনালীর ক্ষতি করে। এতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই এসব অভ্যাস ত্যাগ বা নিয়ন্ত্রণে আনাই হৃদস্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম কার্যকর উপায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধে বড় কোনো পরিবর্তনের চেয়ে ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই বেশি কার্যকর। নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।