প্রিন্স সৌদ বিন মিশালের নেতৃত্বে ধৌত করা হলো পবিত্র কাবা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২১ পিএম | ৩০ জুন, ২০২৬
ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থাপনা কাবা শরিফের বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী ধৌতকরণ অনুষ্ঠান (গুসলুল কাবা) ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফজরের নামাজের পর মসজিদে হারামে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ইসলামিক ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদের পক্ষে অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আবদুল আজিজ। প্রতিবছরের মতো এবারও নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে কাবা শরিফের অভ্যন্তর জমজমের পানি, গোলাপজল, আতর ও বখুর দিয়ে ধৌত ও সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সেক্রেটারি জেনারেল শায়খ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ইসা, সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী তওফিক আল-রাবিয়া, পবিত্র কাবা ঘরের চাবি সংরক্ষক শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শাইবা, পবিত্র কাবার প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস, কাবার ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ।
পবিত্র কাবা ধৌতকরণ উপলক্ষে কাবা চত্বরে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
প্রথম ধাপে ধৌতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কাবা শরিফের কিসওয়া সংরক্ষণের জন্য দরজার পর্দার নিচের অংশ সাময়িকভাবে উত্তোলন করা হয়। এ সময় ২০ লিটার জমজমের পানি এবং ৮০ মিলিলিটার বিশেষ উদ তেল ব্যবহার করা হয়। এরপর জমজমের পানি ও তায়েফের গোলাপজলের মিশ্রণে ভেজানো বিশেষ কাপড় দিয়ে কাবার অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ ও মেঝে পরিষ্কার করা হয়। এ ধাপে ব্যবহৃত হয়- ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফের গোলাপজল, ১১ লিটার বিশেষ সুগন্ধি, ৩ মিলিলিটার মৃগনাভি (মাস্ক)।
শেষ ধাপে কাবার ভেতরের দেয়াল ও কোণায় আতর প্রয়োগ করা হয় এবং উৎকৃষ্ট মানের বখুর ধূপ দিয়ে অভ্যন্তরভাগ সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়। এ পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়- ৫০০ মিলিলিটার আতর, ৫০০ গ্রাম প্রিমিয়াম বখুর।
ইসলামের ইতিহাসে কাবা শরিফ ধৌত করার এই ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবা শরিফে প্রবেশ করে এর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করেছিলেন এবং পবিত্র ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সেই সুন্নাহর ধারাবাহিকতায় সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফের বার্ষিক গোসলের আয়োজন করে থাকে।
বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে এই বার্ষিক গোসল অনুষ্ঠান গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। এটি কাবা শরিফের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
এমআই/এসএন