মিয়ানমারের ওপারে শক্তিশালী বিস্ফোরণ, কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্তের ঘরবাড়ি
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৬ এএম | ০২ জুলাই, ২০২৬
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় পরপর অন্তত ১০টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টার পর থেকে এসব বিস্ফোরণের তীব্রতা বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তেও অনুভূত হয়েছে।
সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পনে ঘরবাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। এতে সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মিয়ানমার সময় রাত প্রায় ৯ টা ২০ মিনিটের দিকে মংডু শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।
কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ, সাবরাং, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তসংলগ্ন অন্যান্য এলাকার মানুষও তা স্পষ্টভাবে শুনতে পান।
হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের সময় ঘরের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। অনেকে প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করলেও পরে বুঝতে পারেন, শব্দটি সীমান্তের ওপার থেকে আসছে। আকস্মিক এ ঘটনায় শিশু ও নারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই সতর্কতামূলকভাবে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
টেকনাফে কর্মরত এনজিও কর্মকর্তা এ.এফ.এম মাহবুব লিখেছেন, টেকনাফে কিছু একটা হচ্ছে কিংবা মায়ানমারে কিছু একটা হচ্ছে। এমন একটা শব্দ হচ্ছে যেন বোমা পড়ছে, বিল্ডিং কাঁপছে, আর একটা বাতাসের ধাক্কা এসে গায়ে লাগছে কেউ কিছু জানলে জানান!
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর কোহিনুর আক্তার জানান, শব্দের তীব্রতায় আশপাশ কেঁপে উঠেছে। তিন-চার বার করে পরপর শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ, মিয়ানমারের ওপারে সংঘর্ষের কারণে এমন শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে শুনেছি।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণগুলো বিমান হামলার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে মিয়ানমারের জান্তা নিয়ন্ত্রিত সামরিক কর্তৃপক্ষ, আরাকান আর্মি (AA) কিংবা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে বিমান হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে মংডু ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পড়ে। অতীতেও একাধিকবার বিস্ফোরণের শব্দ ও গোলার আঘাতে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন।
বুধবার রাতের বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না মিললেও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এছাড়াও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে বলে সীমান্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিজিবির উখিয়া ব্যাটেলিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, উখিয়া ব্যাটেলিয়নের আওতাধীন সীমান্তবর্তী অংশে ওপার থেকে আসা পরপর তিনটি শব্দ শোনা গেছে।
তিনি জানান, বিজিবি সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এমআই/টিএ