যারা পরাজিত হবে, তারা জয়ের মালা পরিয়ে দেবে জয়ীদের: কাজী হায়াৎ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৩৭ পিএম | ০৩ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসি প্রাঙ্গনে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী দুই বছরের জন্য নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব বেছে নিতে আজ ব্যালটের মাধ্যমে রায় দিচ্ছেন রূপালি পর্দার তারকারা। শুক্রবার (৩ জুলাই) চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া সুন্দর পরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ও পরিচালক কাজী হায়াৎ।
ভোট দেওয়া শেষে এফডিসির নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে কাজী হায়াৎ বলেন, এইমাত্র ভোট প্রদান করে বের হলাম। ভোটের পরিবেশ খুব শান্ত এবং দুই পক্ষের মধ্যে যে হৃদ্যতাপূর্ণ ভাব দেখলাম, তাতে আমি অভিভূত। গত কয়েক বছরের যে দণ্ডমুণ্ড কাণ্ড দেখেছি, সেটা আমার কাছে লজ্জাজনক। এবার খুব সুষ্ঠুভাবে, সুন্দরভাবে নির্বাচন হচ্ছে। যারা জয়ী হবে, আমার মনে হয়, যারা পরাজিত হবে, তারা জয়ের মালা পরিয়ে দেবে জয়ীদের। এটাই হবে নিয়ম-সংস্কৃতি নির্বাচনের। আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিধাবিভক্তি নেই। আমাদের পরিচালক বা সিনেমার লোকেদের মধ্যে কোনো দ্বিধাবিভক্তি নেই। কিছু লোক এসে দ্বিধাবিভক্তি করার চেষ্টা করে, তাদের আমি মনে মনে ঘৃণা করি।
চলচ্চিত্র পাড়ায় নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা ও শিল্পীদের ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ভোটার উপস্থিতি অনেক ভালো। ভোট আসবে অনেক। আনন্দঘন পরিবেশে ভোট হচ্ছে, এ নিয়ে আমি খুব আনন্দিত। আমি একজন সিনিয়ার মানুষ হিসেবে, সিনিয়র শিল্পী হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত। শিল্পীরা একজোট হয় সাধারণত তাদের স্বার্থরক্ষার্থে। যদি কেউ বঞ্চিত হয়, কেউ বঞ্চনার শিকার হয়ে প্রতিহিংসার শিকার হয়, সেইসব থেকে রক্ষা করার জন্যেই সাধারণত একত্রিত হয়। তারপরও তাদের স্বার্থ থাকে। স্বার্থ থাকে যদি এদেশে ছবি হয়, তাহলে অন্তত তারা সেখানে কাজ করে খেতে পারে। এই কারণে শিল্পীরা একত্রিত হয়। এই কারণেই আপনারা অনেকে ধারণা করতে পারেন যে, এফডিসিতে সিনেমা নেই নির্বাচন আছে, নির্বাচন খুব জমজমাট। এটা আমি বলব, এটা অবজ্ঞা করা উচিত না।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে টানা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটার আগামী দুই বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি এফডিসি প্রাঙ্গণে তৎপর রয়েছেন র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচন কমিশনে তার সঙ্গে আরও যুক্ত আছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশা। অন্যদিকে, নির্বাচন-পরবর্তী যেকোনো জটিলতা নিরসনে আপিল বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ছটকু আহমেদ, কাজী হায়াৎ ও বাদল খন্দকার।
এসএ/টিকে