© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

১৪ মাস বয়সী নাতনীর ছোট কফিন আলী খামেনির কফিনের পাশে

শেয়ার করুন:
১৪ মাস বয়সী নাতনীর ছোট কফিন আলী খামেনির কফিনের পাশে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০৩ পিএম | ০৪ জুলাই, ২০২৬
শনিবার তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮৬ বছর বয়সী এই নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার ইরানি সমবেত হন।

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতাকায় মোড়ানো এবং উপরে কালো পাগড়ি রাখা খামেনির কফিনটি চত্বরে নিয়ে আসা হয়। তার পাশে খামেনির মৃত আত্মীয়দের মরদেহও রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট কফিনটিও ছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে, খামেনির নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানিও তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিহত হন।

ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ছয় দিনব্যাপী গণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানে এসে পৌঁছায়। তার মরদেহ ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের শহরগুলো জুড়ে বহন করা হবে।
শনিবার জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়ার আগে, শুক্রবার সন্ধ্যায়ই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শত শত সমর্থক অপেক্ষা করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আশা করছেন আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত থাকবেন।

শনিবার ফটক খোলার সাথে সাথেই হাজার হাজার শোকাহত মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং বিশাল কমপ্লেক্সটির প্রধান প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এ সময় শোকাহতরা লাল ব্যানার বহন করছিলেন, যা প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক। তখন ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ ও ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন ইরানের মানুষ।

২৭ বছর বয়সী এক শোকাহত ব্যক্তি একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় নেতা আলী খামেনিকে বিদায় জানাতে এখানে এসেছি। এমন একটি দিন দেখব, তা আমি কখনো আশা করিনি। আমার আফসোস হয়, এই মর্মান্তিক ঘটনার আগেই যদি আমি মারা যেতাম।’

এদিকে, শুক্রবার শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেছেন, সংসদ স্পিকার ও মার্কিন আলোচনার শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফকে এ সময় অশ্রুসিক্ত দেখাচ্ছিল।
খামেনির কফিন সোমবার পর্যন্ত তেহরানে থাকবে, যেদিন শহরজুড়ে একটি শোকযাত্রা বের হবে। মঙ্গলবার এটি ধর্মীয় কেন্দ্র কোমে যাবে, এরপর বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে যাবে এবং সবশেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের খামেনেইয়ের নিজ শহর মাশহাদে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

অন্যদিকে, ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ‘ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাসও শিশুটিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিল, ‘শহীদ জহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানি। ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর কচি নাতনি, যিনি তার পাশেই শাহাদাত বরণের সৌভাগ্য লাভ করেছেন।’

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

টিকে/

মন্তব্য করুন