প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের প্রয়াণ দিবস আজ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:৩০ পিএম | ০৬ জুলাই, ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের গানে যার কণ্ঠ ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর জীবনের প্রতিচ্ছবি, তিনি এন্ড্রু কিশোর। প্লেব্যাক সম্রাট নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি শিল্পীর প্রস্থান দিবস আজ। ২০২০ সালের ৬ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেও তার অসংখ্য কালজয়ী গান আজও কোটি শ্রোতার হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছে।
১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। তার বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ ও মা মিনু বাড়ৈ দুজনেই রাজশাহীর একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় মায়ের অনুপ্রেরণায়। সংগীতপ্রেমী মা প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমারের নাম অনুসারে সন্তানের নাম রাখেন ‘কিশোর’। সেই স্বপ্নই একসময় বাস্তবে রূপ দেন তিনি।
প্রথমে আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছে সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা নেন এন্ড্রু কিশোর। স্বাধীনতার পর নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের শিল্পী হিসেবে রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত হন। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়াশোনা করেন।
সংগীতজীবনে তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অসংখ্য চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন। অসাধারণ গায়কির জন্য তিনি অর্জন করেন ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ খ্যাতি। তার কণ্ঠে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘চাঁদের সাথে রাতের পিরিতি’ এবং ‘পদ্ম পাতার পানি নয়’সহ অসংখ্য গান বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।
জীবনের শেষ সময়ে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামের রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এন্ড্রু কিশোর। দীর্ঘ সময় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। চিকিৎসকদের পরামর্শে ২০২০ সালের ১১ জুন দেশে ফিরে নিজের প্রিয় শহর রাজশাহীতেই শেষ দিনগুলো কাটান। এরপর ৬ জুলাই চিরবিদায় নেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
এন্ড্রু কিশোরের চলে যাওয়ায় বাংলা সংগীতাঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আজও পূরণ হয়নি। তবে তার গাওয়া কালজয়ী গানগুলোই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, বরং এক অনন্য অধ্যায়ের নাম।
টিকে/