© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

শেয়ার করুন:
টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০৫ পিএম | ০৭ জুলাই, ২০২৬
টানা ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, হালিশহর ও কুয়াইশসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানেও পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে টানা বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি জমে যায়। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীর হাট, চান্দগাঁও, হালিশহর, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকায়। অনেক বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির সামগ্রী এবং ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

সকালের ব্যস্ত সময়ে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে, হাতে জুতা নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা যায়। একই সঙ্গে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারেননি।

চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এলেই একই চিত্র দেখা যায়। সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে।

বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার জানান, বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। তার অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।

আকমল আলী রোডের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই অলিগলিতে পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে।

মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বাসার নিচতলা পানিতে ডুবে গেছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরেই আটকে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতির মুখে পড়ে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজন রায় জানান, তাদের কেন্দ্রেও একই সময় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

এসএন

মন্তব্য করুন