বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে তিস্তার পানি, প্লাবিত হতে পারে ১২ জেলার নিম্নাঞ্চল
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৩ পিএম | ০৭ জুলাই, ২০২৬
দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে অন্তত ১২ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টিতে পানি বেড়েছে, ৮৬টিতে কমেছে এবং তিনটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগসহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা উজানের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে বা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া নারায়ণহাট, টেকনাফ, কক্সবাজার, রামগড়, বান্দরবান, মহেশখোলা, লামা ও পরশুরামেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী তিন দিন কমে পরে আবার বাড়তে পারে। গঙ্গার পানি কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর বৃদ্ধি পেতে পারে, আর পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন কমতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলো বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এসএন