© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

খামেনির জানাজায় তেহরানের রাজপথে প্রতিশোধের মহড়া

শেয়ার করুন:
খামেনির জানাজায় তেহরানের রাজপথে প্রতিশোধের মহড়া

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৫৮ পিএম | ০৭ জুলাই, ২০২৬
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও শোকযাত্রাকে কেন্দ্র করে তেহরানের রাজপথ পরিণত হয়েছে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেয়ার মঞ্চে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর তার এই বিদায় অনুষ্ঠানকে কেবল ধর্মীয় রীতিনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মহড়া হিসেবে উদযাপন করছে ইরান।

জানাজায় অংশ নিতে তেহরানের রাস্তায় নেমে আসে কোটি মানুষের ঢল। এ সময় আকাশ কাঁপিয়ে ধ্বনিত হতে থাকে ‘ডেথ টু আমেরিকা, ডেথ টু ইসরাইল’ স্লোগান। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও ইসরাইলি পতাকাসহ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছবি ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। শিয়া ঐতিহ্য অনুযায়ী অন্যায়ের প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে শোকযাত্রার চারদিকে ওড়ানো হয় লাল পতাকা।

একই সঙ্গে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যাপক উপস্থিতি, সামরিক প্রতীক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী দিয়ে বিশ্বকে জানান দেয়া হয়েছে যে, নেতার মৃত্যু হলেও ইরানের সামরিক শক্তি ও কমান্ড কাঠামো ভেঙে পড়েনি।

জানাজায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। খামেনি হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা থাকায় ট্রাম্প এখন ইরানিদের কাছে প্রতিশোধের মূল লক্ষ্যবস্তু। শোক মিছিলে অংশ নেয়া মানুষের হাতে ছিল ‘কিল ট্রাম্প’ ও ‘ট্রাম্প মাস্ট পে’ (ট্রাম্পকে মূল্য দিতে হবে) লেখা সংবলিত পোস্টার। এমনকি জানাজার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া এক কবি প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের মৃত্যুর আহ্বান জানালে উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে তা সমর্থন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জানাজা ও কোটি মানুষের শক্তির মহড়া থেকে ইরান মূলত ৪টি পক্ষের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে। এক সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতেও রাষ্ট্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দ্বিতীয়ত যুক্তরাষ্ট্র নেতাকে হত্যা করলেও তাদের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিরোধ থামানো যাবে না। তৃতীয়ত ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনও পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র প্রতিরোধ অক্ষ শেষ হয়ে যায়নি, বরং তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট আভাস দেয়া হয়েছে।

জানাজার ভাষা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং প্রতিশোধের হলেও এটি এখনই কোনো সরাসরি বা তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার ঘোষণা নয় বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পথ বেছে নিতে পারে- সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা, নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও দ্রুত এগিয়ে নেয়া অথবা উপযুক্ত সময় ও স্থান বুঝে এমনভাবে প্রতিশোধ নেয়া যা প্রতিপক্ষ আগে থেকে আঁচ করতে পারবে না।

অন্যদিকে ইসরাইলও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, ভবিষ্যতে যেকোনো ইরানি নেতা যদি তাদের ধ্বংসের আহ্বান জানান, তবে তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ফলে আলী খামেনির বিদায়ের পরও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন