© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মিশরের দ্বিতীয় গোল কেন বাতিল হয়েছিল, কী বলছেন বিশ্লেষকরা

শেয়ার করুন:
মিশরের দ্বিতীয় গোল কেন বাতিল হয়েছিল, কী বলছেন বিশ্লেষকরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১১ এএম | ০৮ জুলাই, ২০২৬
ম্যাচের ৫৮ মিনিটে স্কোরলাইন ২-০ করে ফেলে মিশর। প্রতি আক্রমণে উঠে দলের লিড দ্বিগুণ করে ফেলেছিলেন জিকো। কিন্তু গোল হওয়ার আগের মুহূর্তে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউলের জন্য ভিএআর গেলে গোল বাতিল হয়। 

বেশ কিছু কারণে ভিএআর-এর ব্যবহার এবং এর এখতিয়ার নিয়ে ফুটবল বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত এখন। 

স্কটল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালি ম্যাককোইস্ট আইটিভিতে বলেন, ‘এত সুন্দর একটি গোল বাতিল হওয়ায় আমি খুবই হতাশ, তবে এটি সঠিক কারণেই বাতিল করা হয়েছে। সে নিশ্চিতভাবেই জার্সি টেনে ধরেছিল।’

অন্যদিকে, ফক্স সকারের সহ-ভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক গোলকিপার রব গ্রিন যা দেখেছেন তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। ফাউলটি গোলপোস্ট থেকে এত দূরে ছিল যে, আর্জেন্টিনা সেখানে একটি ফ্রি-কিক পায়। বলেন, ‘এটা তেমন কিছুই ছিল না… প্রায় পুরো এক মাঠ দূরত্বে ঘটনাটি ঘটেছে, গোলপোস্ট থেকে এটা কত দূরে ছিল তা একবার দেখুন! এটা রিভিউ করা নিশ্চিতভাবেই ভিএআর-এর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এটা ছিল পুরো মাঠের অন্য প্রান্তে।’



তিনি আরও বলেন, ‘১০০ গজ দূরে… এটা সীমার অনেক বাইরে চলে গেছে… রেফারি ট্যাকলটি দেখেছিলেন এবং ফাউল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, এরপর মিশর চমৎকার এক কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে। কিন্তু তাদের দুই গোলের লিড থেকে বঞ্চিত করা হলো।’

বিবিসি রেডিও ৫ লাইভ-এ ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক গোলকিপার পল রবিনসন যোগ করেন, ‘মিশর তাদের বিপক্ষে যাওয়া রেফারির সিদ্ধান্তগুলোতে অত্যন্ত হতাশ। নিজেদের দ্বিতীয় গোলটি পাওয়ার আগে তারা আরেকটি গোল পেয়েছিল, যা প্রায় তাদের নিজেদের টাচলাইনের কাছে হওয়া একটি ফাউলের কারণে বাতিল করা হয়।’

এই ঘটনাটি অন্য একটি প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে- প্রতিটি গোলের ক্ষেত্রে আপনি কত দূর পেছনে ফিরে যাবেন? উদাহরণস্বরূপ, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে যে কাউন্টার অ্যাটাকটি হয়েছিল, তার রিভিউ না হওয়ায় মিশর ক্ষোভে ফেটে পড়ে; যেখানে মোহামেদ সালাহ ভেবেছিলেন তিনি পেনাল্টি পেয়েছেন। তার পরিবর্তে, তিনি দেখলেন আর্জেন্টিনা উল্টো দিকে তীব্র গতিতে আক্রমণ চালিয়ে মাঠের অন্য প্রান্তে গিয়ে তাদের হৃদয় ভেঙে দিল।

বিবিসি রেডিও ৫ লাইভ-এ মিশরীয় ফুটবল বিশেষজ্ঞ আহমেদ ইউসেফ তাদের দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘পুরো মিশরজুড়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বর্তমানে ভিএআর এবং এর সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে, বিশেষ করে একটি সিদ্ধান্তের জন্য কতটা পেছনে যাওয়া হবে তা নিয়ে। মিশরের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করে রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনাটির পর অনেক সময় পার হয়ে গিয়েছিল এবং ফাউলটি ছিল খুবই সামান্য। তাই মিশরের কোচিং স্টাফ এবং স্কোয়াড কেন এত হতাশ, তা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি।’Soccer

‘যদি এই জায়গায় লিওনেল মেসি বা আর্জেন্টিনার জার্সিতে অন্য কেউ থাকতেন, তবে প্রশ্ন হলো রেফারি কি একই রকম সিদ্ধান্ত নিতেন? এই বিষয়টিই মানুষকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে।’

‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এ গ্র্যাহাম স্কট এই ঘটনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এটিকে ‘একটি আশ্চর্যজনক হস্তক্ষেপ এবং শুধুমাত্র ‘সুস্পষ্ট ও নিশ্চিত ভুল’ সংশোধনের ক্ষেত্রে ভিএআর-এর যে ভূমিকা, তার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ভিএআর প্রতিটি গোলের আগে আক্রমণের শুরুটা পরীক্ষা করে দেখে, এবং এই ক্ষেত্রে তারা পজিশন পরিবর্তনের সময় পর্যন্ত পেছনে ফিরে গিয়েছিল। একটি গোল বাতিল করার জন্য সেখানে একটি স্পষ্ট ফাউল হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ফাউলের ঘটনা এবং গোলের মধ্যকার সময় ও দূরত্বের ব্যবধান যত বেশি হবে, ফাউলটি তত বেশি গুরুতর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এখানে বলার মতো কোনো ফাউলই হয়নি, এবং এমন কিছুই ছিল না যা ভিএআর-এর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম সীমার মধ্যেও পড়ে।’

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন