© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সংসদে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার কথা বললেন রেহানা আক্তার রানু

শেয়ার করুন:
সংসদে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার কথা বললেন রেহানা আক্তার রানু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:৩১ পিএম | ০৮ জুলাই, ২০২৬
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ব্যাংক ‘লুটেরা এবং ব্যাংক-খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার’ দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বক্তব্য পরিষ্কার, যারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে, ওই সমস্ত ব্যাংক ডাকাত-ব্যাংক লুটেরাদের কোনও ক্ষমা নেই।

কোনও ক্ষমা হতে পারে না। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক ফিরিয়ে এনে তাদের ‘ডিম থেরাপি’ দিয়ে এই টাকা আদায় করতে হবে।”  
 
বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

নোটিশে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, “দেশের কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম দুর্নীতি এবং মালিকপক্ষের অর্থপাচারের কারণে আজ লক্ষ লক্ষ আমানতকারী তাদের টাকা তুলতে পারছে না, এই টাকা বিলাসিতার জন্য নয়।

এটা একজন বাবার মেয়ের বিয়ের স্বপ্ন, একজন মায়ের চিকিৎসার শেষ ভরসা, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের টিউশন ফি, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন বাঁচানোর মূলধন, কষ্টে অর্জিত টাকা কারও পেনশনের সঞ্চয় কারও সারা জীবনের কষ্টার্জিত আয় বিশ্বাস করে ব্যাংকে রেখেছিল, ব্যাংক মানুষের আস্থার জায়গা, ব্যাংক থেকে টাকা লুট হলে মানুষ কোথায় যাবে। মানুষ যদি ব্যাংকে টাকা না রাখে বিনিয়োগ কমে যাবে, অর্থের প্রবাহ থেমে যাবে, দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে।” 
 
নোটিশে তিনি আরো বলেন, “একজন মানুষের টাকা ব্যাংকে আছে টাকা তুলতে পারছে না বলে সে চিকিৎসা করতে পারছে না। টাকার অভাবে সময়মতো চিকিৎসা না করাতে পেরে অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন।

লুটেরা মালিকপক্ষ বিদেশে পালিয়ে আরামে জীবনযাপন করছে। এই মানুষগুলো বর্তমান সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের কান্না, তাদের আর্তনাদ এই রাষ্ট্রের কাছে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। এ সমস্ত লুটেরা এবং ব্যাংক-খেকো মালিকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা গ্রাহকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” 

নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, একটি নির্বাচিত সরকার এই ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না।

সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ বর্ণিত হয়েছে। এর আওতায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক তথা এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ-পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি, সোশাল ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংক কেন্দ্র একীভূত করে সম্মিলিত ‘ইসলামী ব্যাংক-পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। এটা রেজুলেশন কৌশলের অধীনে গৃহীত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। এই একীভূতকরণের ফলে পাঁচটি ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। এর পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা তহবিলের বিধানের আওতায় নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত আমানতকারীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা হতে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। রেজুলেশনের আওতায় ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলেশন স্কিম মোতাবেক আমানতের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত পাচ্ছে।”  

অর্থমন্ত্রী বলেন, “ফাইন্যান্স কম্পানিগুলোর আমানতকারীরা ইতোপূর্বে আমানত সুরক্ষা আইনের আওতাভুক্ত ছিল না। বর্তমানে সরকার তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সকল পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রাহকদের আমানত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই পাঁচটি ব্যাংকের বিনিয়োগ অনিয়মসমূহে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেন্সিক অডিট চলমান রয়েছে। যার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা হবে। 

টিকে/

মন্তব্য করুন