© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৫ এএম | ০৯ জুলাই, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) মধ্যরাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিশাল এলাকায় এই হামলা চালায়। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের তথ্যমতে, মার্কিন এই হামলায় ইরানের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বন্দর আব্বাসসহ কোনারক ও চাবাহার বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় থাকা ইরানের নৌবাহিনী এবং অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রায় সব স্থাপনায় আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। বোমার আঘাতে চাবাহার বন্দর ও আশপাশের এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা স্বাভাবিক করতে ভোর থেকে কাজ শুরু হয় বলে মেহের নিউজ জানিয়েছে। সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি দক্ষিণ ইরানের ইরানশহর শহরের একটি বিমানবন্দর এবং উত্তর দিকের আক্কালা শহরের একটি রেলসেতুতেও হামলা চালানো হয়েছে। ইরানশহর বিমানবন্দরে মার্কিন বোমার আঘাতে এক ফায়ার সার্ভিসকর্মী নিহত হয়েছেন।

গত ৫ জুলাই শনিবার ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার জেরে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। এর জবাবে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির ৮০টি সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে প্রথম দফায় বোমাবর্ষণ করেছিল সেন্টকম। মার্কিন ওই হামলার পরপরই জবাব দিতে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায় আইআরজিসি। এসব হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। তার এই ঘোষণার পরই বুধবার দ্বিতীয় দফায় এই বড় ধরনের হামলা চালায় সেন্টকম। এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের চেয়ে বুধবারের হামলার মাত্রা অনেক বেশি ছিল।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার প্রতি হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা হ্রাস করতেই ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত এই হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে অন্যায্য হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে, বুধবারের এই হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান পুনরায় আগ্রাসন চালালে এর চেয়েও ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আরআই/ এসএন

মন্তব্য করুন