তালিকায় এমবাপ্পেও, পেনাল্টি মিসের দিক থেকে ইতিহাসের ‘বাজে’ বিশ্বকাপ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৯ এএম | ১০ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বকাপ যেন পেনাল্টি মিসের এক আসরে পরিণত হয়েছে। আজ মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন পেনাল্টি শট নিতে দাঁড়ালেন, তার আগেই এই আসরে অনেক বড় বড় তারকা গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর এমবাপ্পে যে শটটি নিলেন তা ছিল বেশ দুর্বল এবং উচ্চতাও ছিল গোলরক্ষকের নাগালে, যা মরক্কোর গোলরক্ষক বুনো সহজেই রুখে দেন।
ফ্রান্সের এই ১০ নম্বর জার্সিধারীর ব্যর্থতা তাকে লিওনেল মেসি ও ব্রুনো গিমারেসের মতো তারকাদের তালিকায় বসিয়ে দিল।
১৯৬৬ সাল থেকে অপ্টা’র (Opta) সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পেনাল্টিতে গোল করার সর্বনিম্ন হার। এমবাপ্পের শটটিসহ এখন পর্যন্ত আসরের ৬০টি পেনাল্টি শটের (নির্ধারিত সময় ও টাইব্রেকার মিলিয়ে) মধ্যে ২১টিই গোল হতে ব্যর্থ হয়েছে, যা মাত্র ৬৫ শতাংশ সাফল্যের হার।
ম্যাচ চলাকালীন বা নির্ধারিত সময়ের পেনাল্টিগুলোর পরিসংখ্যানও বেশ উদ্বেগজনক। এমবাপ্পের মিসসহ এখন পর্যন্ত ২০টি স্পট কিকের মধ্যে ৬টি মিস হয়েছে, সাফল্যের হার মাত্র ৭০ শতাংশ।

অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ধরণের পেনাল্টিতে গোল করার গড় হার প্রায় ৭৯.১ শতাংশ।
বড় বড় তারকাদের ব্যর্থতাই এই পরিসংখ্যানকে নিচের দিকে নামিয়ে দিচ্ছে। লিওনেল মেসি এই বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ও মিশরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন। টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের এক আসরে একাধিক পেনাল্টি মিস করার এটিই প্রথম নজির। সব আসর মিলিয়ে মেসি এ পর্যন্ত ৮টি পেনাল্টির ৪টিই মিস করেছেন, অর্থাৎ সাফল্যের হার মাত্র ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রুনো গিমারেস নরওয়ের বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, যা ব্রাজিলের বিদায়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন এমবাপ্পেও।
টাইব্রেকার বা পেনাল্টি শ্যুটআউটের চিত্রটি আরও কঠিন। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত চারটি টাইব্রেকার লড়াইয়ে ৪০টি শটের মধ্যে ১৫টিই মিস হয়েছে, যার সাফল্যের হার মাত্র ৬২.৫ শতাংশ। জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচে ১২টি শটের ৫টিই গোল হয়নি; নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচে ১০টির মধ্যে ৫টি এবং সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচে ১০টির মধ্যে ৩টি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। অথচ অতীতে টাইব্রেকারে সাফল্যের হার ছিল গড়ে ৬৯.৪ শতাংশ।
২০২৬ বিশ্বকাপ যেন দুটি বড় সংকটের সাক্ষী হয়ে আছে। একদিকে পেনাল্টি বিশেষজ্ঞদের ব্যর্থতা এবং অন্যদিকে টাইব্রেকারে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের আনাড়িপনা। পরিসংখ্যান বলছে, ডিফেন্ডাররা এখন পর্যন্ত ১১টি পেনাল্টির মাত্র ৫টি জালে জড়াতে পেরেছেন। ৪৫.৪ শতাংশ সাফল্যের হার নিয়ে গোল করার দৌড়ে পজিশন অনুযায়ী তারাই এখন সবচেয়ে পিছিয়ে।
ম্যানুয়েল আকাঞ্জি, ডেভিনসন সানচেজ, জোনাথন তাহ এবং ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনার মতো ডিফেন্ডারদের পেনাল্টি মিস প্রমাণ করে যে, এই দায়িত্ব পালনে অনভ্যস্ত খেলোয়াড়দের ওপর অনেক তাড়াতাড়ি চাপ চলে আসছে।
২০১৪ সাল থেকেই পেনাল্টিতে গোলের হার ধীরে ধীরে নিম্নমুখী ছিল, যা এই আসরে এসে আরও প্রকট হয়েছে। গোলরক্ষকদের উন্নত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, স্নায়ুচাপ, ভিএআর পরীক্ষার কারণে লম্বা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং দীর্ঘ প্রতিযোগিতার মানসিক ধকলই মূলত পেনাল্টিকে এখন একটি ফাঁদে পরিণত করেছে।