© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাবে ‘সুপার টাইফুন’, অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা

শেয়ার করুন:
ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাবে ‘সুপার টাইফুন’, অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০০ এএম | ১০ জুলাই, ২০২৬
প্রতিবেশী চীন ও তাইওয়ানের দিকে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ১৯৮৭ সালের পর বিস্তৃতি বা আকারের দিক থেকে এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় টাইফুন।

সম্ভাব্য ভয়াবহ এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২৯ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে বিধ্বংসী ক্রান্তীয় ঝড়গুলোর একটি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন সময় এটি আঘাত হানতে যাচ্ছে, যখন কিছুদিন আগেই টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাবে ‘সুপার টাইফুন’, অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২০২৪ সালের ‘কং-রে’ টাইফুনের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। ওই টাইফুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল।

ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে তাণ্ডব চালাবে ‘সুপার টাইফুন’, অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা

আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৯৮৭ সালের পর বিস্তৃতি বা আকারের দিক থেকে ধেয়ে আসা সুপার টাইফুনটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় টাইফুন।


জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত টাইফুন ‘বাভি’ উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে আগামী শনিবার সন্ধ্যায় চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস কর্মকর্তা জেসন চ্যাং রয়টার্সকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের ঝড় খুব কমই দেখা গেছে। তার মতে, ১৯৮৭ সালের পর আয়তনের দিক থেকে এটিই তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ঝড় হতে পারে।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে টাইফুন ‘মায়সাক’-এ চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীন, জাপান ও তাইওয়ান ক্রমেই শক্তিশালী দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বছর এল নিনোর প্রভাব দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন ও শক্তিশালী টাইফুন সৃষ্টি করতে সহায়তা করতে পারে।

বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ‘বাভি’র বাতাসের গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে এটি এখনও অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝড় হিসেবেই আঘাত হানবে।

এদিকে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলেও শুক্রবার ও শনিবার প্রবল বাতাস, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।

অন্যদিকে বেইজিং নিউজ জানিয়েছে, টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে বিনইয়াং কাউন্টির একটি খামারে দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকার পর অসংখ্য শূকর মারা গেছে।

গ্লোবাল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, গুয়িগাং চিড়িয়াখানায় বন্যার পানিতে তিনটি সিংহ মারা গেছে। এছাড়া দুটি জেব্রা, চারটি সজারু, অসংখ্য টিয়া পাখি এবং উত্তর আমেরিকার দুটি র‌্যাকুনসহ প্রায় ১০০টি প্রাণী এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার পরিচালনাকারী ওয়াং লিয়ুয়ান।

ধেয়ে আসা টাইফুনের কারণে জাপান এয়ারলাইন্স শুক্রবারের ৪৮টি অভ্যন্তরীণ ও দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬১০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও শুক্রবার ৩৪টি এবং শনিবার আরও ৩৩টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এতে দুই দিনে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়বেন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, ‘বাভি’ দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করায় প্রচুর শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে।

তিনি বলেন, উপকূলে আঘাত হানলে এর ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে ভয়াবহ। এমনকি ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন