© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও বাহরাইনে হামলা করেছে ইরান

শেয়ার করুন:
কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও বাহরাইনে হামলা করেছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫৮ পিএম | ১০ জুলাই, ২০২৬
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানের ৫ প্রদেশে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী চার দেশ কুয়েত, কাতার, বাহরাইন এবং জর্ডানে মার্কিন স্থাপনায় হামলা করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সন্ধ্যায় ইরানে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই পাল্টা হামলা পরিচালনা করা হয়েছে উল্লেখ করে আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবারের হামলায় কুয়েতের মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কাতারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিষয়ক পূর্ব সতর্কীকারণ কেন্দ্র এবং বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আইআরজিসি এই বিবৃতি প্রদানের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি এক বিবৃতিতে কুয়েত জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কুয়েতকে লক্ষ্য একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং সবগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কুয়েতে একজন নিহত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার রাতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করে সেগুলোর মধ্যে ৮টিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে। বাকি দু’টিকে আটকানো সম্ভব না হলেও আজরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে কোনো প্রাণহানি বা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে জর্ডানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা।

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি ভঙ্গ করে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে ৩ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। তারপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে হামলার পর গত ৭ এবং ৮ জুলাই রানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, উপকূল অঞ্চলে নজরদারী স্থাপনা ও সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ডিপো, নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা, সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন লজিস্টিক অবকাঠামো।

মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েত এবং বাহরাইনের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে দফা হামলা করেছিল ইরান। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা হামলা হলো।

সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলার জবাব দিতে ৭ ও ৮ জুলাই অভিযান চালিয়েছে সেন্টকম। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল রুটে যুক্তরাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে সেখানে হামলা করা হয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন