© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৩০০ টাকা নিয়ে বাড়িছাড়া যশ এখন কোটিপতি

শেয়ার করুন:
৩০০ টাকা নিয়ে বাড়িছাড়া যশ এখন কোটিপতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪০ পিএম | ১০ জুলাই, ২০২৬
কন্নড় চলচ্চিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হওয়া যশের জীবন যেন রূপকথাকেও হার মানায়। একসময় পকেটে ছিল মাত্র ৩০০ রুপি, মাথার ওপর ছিল না নিশ্চিত আশ্রয়। সেই তরুণই আজ ‘রকি ভাই’ নামে কোটি কোটি দর্শকের কাছে পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি এখন তিনি চার হাজার কোটি রুপি বাজেটের বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ’ চলচ্চিত্রের সহপ্রযোজক হিসেবেও নতুন দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন।

সম্প্রতি ৪০ বছরে পা দেওয়া এই অভিনেতা শুধু নিজের সাফল্যের জন্যই নয়, কন্নড় চলচ্চিত্রকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্যও বিশেষভাবে প্রশংসিত। তার অভিনীত ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ১’ ছিল প্রথম কন্নড় চলচ্চিত্র, যা বক্স অফিসে ১০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে। এরপর ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ বিশ্বব্যাপী এক হাজার কোটি রুপিরও বেশি আয় করে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে নেয়।

বর্তমানে যশকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় প্রকল্প। এর একটি গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’, যা আগামী বছরের মার্চে মুক্তির কথা রয়েছে। অন্যটি নিতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’, যেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি সহপ্রযোজক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি।



তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। কর্ণাটকের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া যশের প্রকৃত নাম নবীন কুমার। তার বাবা অরুণ কুমার ছিলেন সরকারি বাসচালক। সীমিত আয়ের সংসারে বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও একদিন মাত্র ৩০০ রুপি নিয়ে বেঙ্গালুরু শহরে পাড়ি জমান নিজের স্বপ্ন পূরণের আশায়।

শহরে প্রথম জীবনের দিনগুলো ছিল কঠিন সংগ্রামের। পরিচিত কেউ না থাকায় কখনও ফুটপাতে, কখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে তাকে। পুলিশের তাড়ায় মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়াও ছিল সেই জীবনের অংশ। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে যশ জানিয়েছিলেন, পকেটে মাত্র ৩০০ রুপি থাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। সফল না হলে পরিবারের ইচ্ছামতো অন্য পেশা বেছে নেওয়ার শর্তও ছিল তার সামনে।

বেঁচে থাকার লড়াইয়ে থিয়েটারে ছোটখাটো নানা কাজ দিয়ে শুরু হয় তার পথচলা। মঞ্চের পেছনে চা পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে পরিচালকের সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ পান। এরপর টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। অবশেষে ২০০৭ সালে ‘জামবাদা হুদুগি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।

আজ যশের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০ থেকে ২৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। বেঙ্গালুরুর অভিজাত এলাকায় স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিত, দুই সন্তান ও মা-বাবাকে নিয়ে তার বসবাস। ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়েছে মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি ও বিএমডব্লিউসহ একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি।

তবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও নিজের শিকড় ভুলে যাননি যশ। তারকা হওয়ার পরও দীর্ঘদিন বাসচালকের পেশা ছাড়েননি তার বাবা। বাবার কর্মনিষ্ঠা ও আত্মসম্মানবোধই তাকে জীবনের প্রতিটি ধাপে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবাতেও সক্রিয় যশ। ২০১৭ সালে স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিতকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘যশো মার্গ ফাউন্ডেশন’। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় জলসংকট নিরসন, হ্রদ সংস্কার এবং খরাপ্রবণ গ্রামগুলোতে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার মতো নানা সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছেন তিনি। সংগ্রাম থেকে সাফল্যের এই যাত্রা তাই শুধু একজন তারকার নয়, বরং স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণার গল্প।

এসএ/টিকে

মন্তব্য করুন