© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রধান আসামি হয়েও হত্যা মামলা থেকে সাময়িক অব্যাহতি, জেলে অন্যরা

শেয়ার করুন:
প্রধান আসামি হয়েও হত্যা মামলা থেকে সাময়িক অব্যাহতি, জেলে অন্যরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৪৬ পিএম | ১৪ জুলাই, ২০২৬
বৈশাখী টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলনের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। একই সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও পুলিশি তদন্তে তাকে ‘সাময়িক অব্যাহতি’ দেওয়ার সুপারিশ নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। গত ২৭ জুন, ২০২৬ তারিখে মো: মোখলেসুর রহমান নামে এক সচেতন নাগরিক ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।



দুদকে দাখিলকৃত অভিযোগ: ভ্যানচালক থেকে ৫০০ কোটির মালিক!

দুদকে জমা পড়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, এক সময় ঢাকা কলেজের সামনে ভ্যান গাড়িতে কাপড় বিক্রি করা টিপু আলম মিলন বর্তমানে নামে-বেনামে প্রায় পাঁচশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। বৈশাখী টিভিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেই তিনি প্রায় ১০ কোটি টাকা সাদা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তার বিরুদ্ধে আনীত উল্লেখযোগ্য অবৈধ সম্পদের বিবরণ:

ফ্ল্যাট ও বাগানবাড়ি: রাজধানীর মহাখালী (রোড-১৬৯, পশ্চিম আরজতপাড়া) এবং বনানীর ৯ নম্বর ন্যাম ভবনে (রোড-২, ফ্ল্যাট বি-০৩) দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া আশিয়ান সিটিতে দেড় বিঘার ওপর তার একটি সুবিশাল বাগানবাড়ি রয়েছে।

জাহাজ ও শেয়ার ব্যবসা: চট্টগ্রাম বন্দরে টিপু আলমের মালিকানাধীন ৭টি লাইটারেজ জাহাজ রয়েছে এবং বনানীর পার্ল হোটেলেও তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
বিজ্ঞাপনী সংস্থার নামে ফাঁকি: ২০২০ সালে তিনি 'মিড এন্টারপ্রাইজ' নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা খোলেন, যার ঠিকানা হিসেবে বৈশাখী টিভির কার্যালয় ব্যবহার করা হচ্ছে। বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের অর্থ এই এজেন্সির নামে নেওয়া হলেও এর অনুকূলে কোনো ভ্যাট-ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচার: তার দুই ছেলে কানাডা ও মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করে। অভিযোগ রয়েছে, অপ্রদর্শিত আয় ও হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন।
হত্যা মামলার প্রধান আসামি, অথচ পুলিশ প্রতিবেদনে ‘অব্যাহতি’!



দুদকে দায়ের করা অভিযোগে টিপু আলম মিলনকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের অর্থ জোগানদাতা’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ডিএমপির কোতয়ালী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় (মামলা নং- ১২, জিআর- ২৩৪/২৪) তিনি ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। গত ১৬ জুলাই, ২০২৪ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মিছিল নিয়ে সিএমএম আদালতের সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অনিক কুমার দাস নামে এক শিক্ষার্থী পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এই মামলায় পেনাল কোডের ৩২৬/৩০৭/১৪৯/১৪৭/১২০বি ধারায় টিপু আলম সহ অন্যান্যদের আসামি করা হয়।



তদন্ত কর্মকর্তার রহস্যজনক ভূমিকা: মামলার অন্যান্য আসামিরা (যেমন দেশ টিভির আরিফ হাসান) গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও, ১ নম্বর আসামি টিপু আলম মিলনের ক্ষেত্রে পুলিশ নমনীয় ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২২ জুন, ২০২৬ তারিখে কোতয়ালী থানার এসআই কে এম আবদুল হক আদালতে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন’ দাখিল করেন।

উক্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, "তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির সিডিআর (CDR) পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ও অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে টিপু আলমের সংশ্লিষ্টতার কোনো সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতারও তথ্য মেলেনি।" এই অজুহাতে মামলার দায় হতে টিপু আলম মিলনকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে, যা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধান ও আইনি ব্যবস্থার দাবি :
অভিযোগকারী মোখলেসুর রহমান জানান, ২০১৬ সালের আগেও টিপু আলমের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অভিযোগ হয়েছিল। তবে সে সময় উল্লেখযোগ্য সম্পদ না থাকায় পার পেয়ে গিয়ে পরবর্তীতে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের প্রভাবশালী অপরাধী ও অর্থ পাচারকারীরা কীভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাইযোদ্ধারা। একটি সৎ ও দক্ষ টিম দিয়ে অতি দ্রুত টিপু আলমের এই বিপুল অবৈধ সম্পদ ও হত্যা মামলায় রহস্যজনক অব্যাহতির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন