© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিন বাড়ল তেলের দাম

শেয়ার করুন:
বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিন বাড়ল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫৬ এএম | ১৬ জুলাই, ২০২৬
ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের মূল্য ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে।


একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন বুধবারও উভয় সূচকের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। ফলে মঙ্গলবার স্পর্শ করা এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছিই রয়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপের পাশাপাশি দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি আরও সীমিত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অস্তিত্বের যুদ্ধে’ রয়েছে।


নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বাজারের ধারণা, এখনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে সংঘাত আরও তীব্র হলে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।

গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর জুনের যুদ্ধবিরতি কার্যত আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির প্রবেশপথেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এদিকে গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হলে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে উত্তেজনা কমে এলে এবং উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বাড়লে বছরের শেষ দিকে দাম ৬০ ডলারের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য বলছে, ১০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। যদিও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল, এ সময়ে মজুত কমবে ২৬ লাখ ব্যারেল।

এসএন 

মন্তব্য করুন