© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ব্রাজিলের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন:
ব্রাজিলের পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৭ পিএম | ১৬ জুলাই, ২০২৬
ব্রাজিল থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন এই শুল্ক আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ব্রাজিলের ‘অন্যায্য আচরণ’ এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক বছর তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে, নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে কফি ও গরুর মাংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্য।

হোয়াইট হাউস বলছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমিয়ে রেখে ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়ানো।
এদিকে আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ব্রাজিল সরকার।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সির সামাজিক যোগাযোগ সচিবালয় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এ ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ব্রাজিল এসব তদন্তের বৈধতা অস্বীকার করে কারণ এগুলোর পক্ষে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার কোনো ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘দুঃখজনক মাইলফলক’ বলে আখ্যা দিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কেন এই শুল্ক আরোপ?

এ বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রযুক্তি ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অন্যায্য বাধা সৃষ্টি করছে ব্রাজিল। এ ছাড়া অবৈধ বন উজাড় রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে ব্রাজিল। এর ফলে দেশটির উৎপাদকরা মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অন্যায্য ব্যয়গত সুবিধা পাচ্ছে।

মার্কিন ইথানলের বাজারে প্রবেশ সীমিত করছে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না ব্রাজিল।

পাশাপাশি লাতিন এই দেশটি কিছু দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল বাণিজ্যিক তদন্তের ফল নয়; এটি ট্রাম্প ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রতিফলন। 

এর আগে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর প্রতি ব্রাজিলের আচরণের সমালোচনা করে দেশটির ওপর পৃথক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত ছয় সপ্তাহের আলোচনায় আরও গঠনমূলক মনোভাব দেখিয়েছেন ব্রাজিলের কর্মকর্তারা। 

এই পরিস্থিতির জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা এবং তার সরকারকেই দায়ী করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, লুলার অর্থনৈতিক নীতি আমেরিকানদের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্রাজিলের জনগণের জন্যও ক্ষতিকর। গত এক বছর তিনি নিজের অহংকে জনগণের স্বার্থের ওপরে রেখেছেন, আর এই শুল্ক সেই সিদ্ধান্তেরই মূল্য।

তবু দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

টিকে/

মন্তব্য করুন