© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফুটবল বিশ্বকাপে মগ্ন দেশ, আড়ালে জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ভরাডুবি

শেয়ার করুন:
ফুটবল বিশ্বকাপে মগ্ন দেশ, আড়ালে জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ভরাডুবি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১১ এএম | ১৭ জুলাই, ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যরকম এক উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থকদের তর্ক, দলগুলোর জয়-পরাজয়ের খবর, ম্যাচ বিশ্লেষণ; সব মিলিয়ে দেশের ক্রীড়া আলোচনার প্রায় পুরোটা জুড়েই এখন ফুটবল। আর সেই উন্মাদনার আড়ালেই নীরবে শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আরেকটি হতাশাজনক বিদেশ সফর।

পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে গত ২১ জুন জিম্বাবুয়ের বিমান ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। ইতোমধ্যে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ শেষ, টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাকি আর দুই ম্যাচ। এই সফরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে প্রায় কিছুই নেই। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হার, তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেভাগেই সিরিজ খোয়ানো, আর টি-টোয়েন্টি সিরিজও শুরু হয়েছে ৩২ রানের পরাজয় দিয়ে। অর্থাৎ তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই প্রতিপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়েকে বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষই মনে হয়। বিশেষ করে গত এক দশকে দুই দলের শক্তির পার্থক্য ছিল স্পষ্ট। কিন্তু এবার সেই ধারণাই ভেঙে দিয়েছে স্বাগতিকরা। শুধু ম্যাচ জেতাই নয়, খেলাটির প্রায় প্রতিটি বিভাগেই তারা বাংলাদেশকে ছাপিয়ে গেছে।

টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং দুই ইনিংসেই ভেঙে পড়ে। বোলাররা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেননি, ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন। ফল—ইনিংস ব্যবধানে লজ্জাজনক হার। এরপর ওয়ানডে সিরিজেও দৃশ্যপট খুব একটা বদলায়নি। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য পেয়েও ২৫ রানের হার, দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৩ রানের পরাজয়ে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যায়। শেষ ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো গেলেও তাতে সিরিজ হারের হতাশা কমেনি। তাছাড়া ম্যাচটিতে নিজেদের সেরা তিন বোলারকে বিশ্রাম দিয়েছিল স্বাগতিকরা।

অথচ এই দলটিই কিনা ঘরের মাঠে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় সেরা দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছিল ২-১ ব্যবধানে। অল্পের জন্য হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেয়েছিল অজিরা। আর জিম্বাবুয়ের আগে খেলা টেস্টে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল পাকিস্তানকে।

এদিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও ইতিবাচক সূচনা আনতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৭১ রান তাড়া করতে নেমে ৩২ রানের ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। সিরিজে বাঁচাতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই হৃদয়দের। সফরের শেষ ম্যাচটি মাঠে গড়াবে ১৯ জুলাই।



সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই সফরের ব্যর্থতা হয়তো অন্য সময় হলে দেশে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিত। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে তা অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম; সবখানেই বিশ্বকাপের খবর প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

বাংলাদেশের এই ব্যর্থতার সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব, নতুন বলে দ্রুত উইকেট হারানো, মাঝের ওভারে রান তোলার গতি কমে যাওয়া, বোলারদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিতে না পারা; সব মিলিয়ে পুরো দলই প্রত্যাশার অনেক নিচে খেলছে।

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন