© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, জানে না কেউ

শেয়ার করুন:
ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, জানে না কেউ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫১ পিএম | ১৭ জুলাই, ২০২৬
ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য গত কয়েক দিন ধরে ভাঙার কাজ চলছে। তবে কার নির্দেশে বা কেন এটি অপসারণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ।

বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা চত্বরটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, ভাস্কর্যটি কেন অপসারণ করা হচ্ছে, তা তার জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন এই স্থাপনা ভাঙার কাজ করছে না। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার ধারণা, সেই সিদ্ধান্তই সড়ক বিভাগ ও পৌরসভা বাস্তবায়ন করছে। তবে জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানও দাবি করেন, কে বা কারা ভাস্কর্যটি অপসারণ করছে, সে বিষয়ে তার কোনো তথ্য নেই।

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ বলেন, ভাস্কর্যটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই দফা ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল। পাশাপাশি এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছিল। কয়েকটি সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হলেও ভাঙার দায়িত্ব কেউ নিতে রাজি হয়নি। বর্তমানে কারা কাজটি করছে, সেটিও তিনি জানেন না বলে জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলায় এটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ হয়নি এবং পরে আগাছায় ঢেকে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের প্রবেশমুখে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণে ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ঝিনাইদহেও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে এমন একটি চত্বর ছিল, যা এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু কেন, তা কেউ জানে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, পুরো জাতির গর্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে তার আত্মত্যাগ তুলে ধরতে জেলার প্রবেশমুখে তার নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ থাকা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন।

এসএন 

মন্তব্য করুন