ফিফা বিশ্বকাপ: রেফারিদের দিতে হয় যেসব কঠিন পরীক্ষা!
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১৭ পিএম | ১৭ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলোয়াড়দের মতোই জায়গা করে নেওয়ার লড়াই থাকে রেফারিদেরও। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেতে দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি, কঠিন পরীক্ষা ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ফিটনেস, অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও বিবেচনায় নেয় ফিফা।
২০২৬ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করছেন ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। মোট ১৭০ সদস্যের এই ম্যাচ কর্মকর্তা দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়। ৪৮ দলের বর্ধিত আসরে ১০৪টি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব তাদের কাঁধে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের রেফারি বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয় আগের আসর শেষ হওয়ার পরপরই। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই শুরু হয়েছিল ২০২৬ আসরের সম্ভাব্য রেফারিদের পর্যবেক্ষণ। প্রার্থীদের অংশ নিতে হয় বিশেষ সেমিনারে, দিতে হয় কঠোর ফিটনেস পরীক্ষা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও থাকতে হয়।

জানা গেছে, ৯০ মিনিটের ম্যাচে একজন রেফারিকে সাধারণত ১০ থেকে ১৩ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়। বড় ম্যাচে এটি ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়, যা একজন মিডফিল্ডারের সমান। এর জন্য তাদের ৪০ মিটার স্প্রিন্ট ও ইয়ো-ইয়ো টেস্টের মতো কঠিন ফিটনেস পরীক্ষায় নিয়মিত পাস করতে হয়।
শুধু শারীরিক সক্ষমতা দিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট মেলে না। গত তিন বছরে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে রেফারিদের পারফরম্যান্সও খুঁটিয়ে দেখা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ফিফার পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত থেকে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ও পুরো রেফারি দলের সমন্বয় মূল্যায়ন করেন।
২০১৪ বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ পরিচালনা করা ইতালিয়ান সহকারী রেফারি রেনাতো ফাভেরানি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রেফারিদের এককভাবে নয়, দল হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। একই রেফারি দলকে বিভিন্ন ম্যাচে একসঙ্গে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং প্রতিটি ম্যাচ শেষে তাদের পারফরম্যান্সের রিপোর্ট তৈরি করা হয়।’
বিশ্বকাপে নির্বাচিত হওয়ার পরও সব ম্যাচের দায়িত্ব আগে থেকে নিশ্চিত থাকে না। টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রতিটি ম্যাচের তিন থেকে চার দিন আগে রেফারিদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে দায়িত্ব দেয় ফিফা। স্বার্থের সংঘাত এড়াতে কোনো রেফারিকে তার নিজ দেশের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হয় না।
এদিকে ফিফার সাম্প্রতিক আসরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রধান রেফারির টুর্নামেন্ট ফি হিসেবে ৫০-৭০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ৬০ থেকে ৮৫ লাখ টাকা)। এর পাশাপাশি তিনি ম্যাচপ্রতি পান ৩-৫ হাজার মার্কিন ডলার ৩.৫ থেকে ৬ লাখ টাকা)। অর্থাৎ, একটি বিশ্বকাপ আসর থেকে প্রধান রেফারিরা ১ কোটি টাকার বেশি আয় করেন।
এছাড়া সহকারী রেফারিরা (লাইন্সম্যান) টুর্নামেন্ট ফি হিসেবে ২৫-৩৫ হাজার ডলার (প্রায় ৩০ থেকে ৪২ লাখ টাকা) এবং ম্যাচপ্রতি ফি ২-৩ হাজার ডলার (প্রায় ২.৫ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা) আয় করে থাকেন।
এমআর/টিকে