আর্জেন্টাইন তরুণীর বার্তাআমাদের প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করো না, আমরা ইসরায়েলকে সমর্থন করি না
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৯ পিএম | ১৭ জুলাই, ২০২৬
সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে মাঠের খেলার পাশাপাশি গ্যালারি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক প্রতিবাদের মঞ্চে। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয়ের পর এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী ভক্ত সাফ যেন জানিয়ে দিলেন,আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই দখলদার ইসরায়েলকে সমর্থন করে না।
বুধবার (১৫ জুলাই) ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আর্জেন্টিনার ওই নারী বলেন, কাম অন ফিলিস্তিন! কোনো আর্জেন্টিনিয়ান, বিশেষ করে কোনো প্রকৃত আর্জেন্টিনিয়ান ইসরায়েলকে সমর্থন করে না। আমাদের প্রেসিডেন্টকে বিশ্বাস করো না, যাকে টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে।
আমরা ইসরায়েলকে সমর্থন করি না, কারণ তারা ফিলিস্তিনে দখল ও গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের সঙ্গে থাকো।
এই বক্তব্যটি কেবল একজন ভক্তের আবেগ নয়, বরং এটি আর্জেন্টিনার বর্তমান কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ইসরায়েলঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে দেশটির সাধারণ জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
২০২৩ সালের শেষদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই তার দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নীতি গ্রহণ করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলেইয়ের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত গভীর ও ব্যক্তিগত স্তরের।
ক্ষমতা গ্রহণের পর মিলেই তেল-আবিব থেকে আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দেন, যা ফিলিস্তিনপন্থি ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
তাছাড়া গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র বৈশ্বিক সমালোচনার মধ্যেও নেতানিয়াহুর পদক্ষেপকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছেন মিলেই। নেতানিয়াহুও মিলেইকে ইসরায়েলের ‘প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সমালোচকদের দাবি, মিলেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিকে ভেঙে সম্পূর্ণ একপেশেভাবে ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড় করিয়েছেন, যা দেশের সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটায় না। ভাইরাল ভিডিওতে ভক্তের প্রেসিডেন্টকে টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে’ মন্তব্যটি মূলত সরকারের এই বিতর্কিত বিদেশ নীতির প্রতি সাধারণ জনগণের চরম অনাস্থারই প্রতীক।
আর্জেন্টিনায় ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে ২০২৫ সালের আগস্ট ও জুনে গাজায় যুদ্ধের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। তাছাড়া ২০২৪ সালের ১৬ ও ১৭ জুলাই এই শহরে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হয়েছে। সেসময় বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ব্যানার প্রদর্শন করেন।
আর্জেন্টিনার বামপন্থি দল, মানবাধিকার সংস্থা ও সাধারণ নাগরিকরা সবসময়ই গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বার্তা- মিলেই সরকারের নীতি আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষের নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না।
এমআর/টিকে