জন্মভূমির বিপক্ষেই ফাইনালে খেলছেন নিকো পাজ
ছবি: সংগৃহীত
০৩:০৮ এএম | ১৯ জুলাই, ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলের স্কোয়াডে থাকা ৫২ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজনের গল্পটা একেবারেই আলাদা।
তিনি নিকোলাস পাজ। ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার আজ কোচ লিওনেল স্কালোনির বেঞ্চের অন্যতম ভরসা।
স্পেনের সান্তা ক্রুজ দে তেনেরিফেতে জন্ম নিলেও তিনি বেছে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি!
নিকোর বাবা পাবলো পাজ নিজেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন। ১৯৯৬ আটলান্টা অলিম্পিকে রুপাজয়ী এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলা বাবার দেশকেই নিজের করে নিয়েছেন ২০০৪ সালে জন্ম নেওয়া এই তরুণ।
তার কথা বলার সময় স্প্যানিশ টানটা এখনো বেশ স্পষ্ট। তবে ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন তিনি।
১০ নম্বর জার্সি পরা ছোটবেলার একটি ছবি পোস্ট করে সেই ভালোবাসার কথাই জানিয়েছিলেন নিকো।
ফিফার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাবা ছোটবেলা থেকেই আমার ভেতরে দেশের প্রতি আবেগটা ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আমার নাম লেখা জার্সি কিনে দিতেন। আমি সবসময় অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই উৎসাহ নিয়ে খেলা দেখতাম।’
রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি থেকে উঠে আসলেও মূল দলে সেভাবে থিতু হতে পারেননি নিকো। ২০২৪ সালের আগস্টে পাড়ি জমান ইতালির ক্লাব কোমোতে। গত মৌসুমে সেখানেই আলো ছড়িয়ে ইতালিয়ান ফুটবলের অন্যতম তারকা হয়ে ওঠেন তিনি।
হুয়ান মার্টিন তাসির স্কাউটিং প্রজেক্টের মাধ্যমেই মূলত আর্জেন্টিনার রাডারে আসেন নিকো, ঠিক যেভাবে গার্নাচো দলে এসেছিলেন। কাতার বিশ্বকাপের আগেই তাকে দলে ডাকা হয়, মূলত দলের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে। সেখানেই নিজের আইডল লিওনেল মেসির সাথে প্রথম দেখা হয় তার।

ছেলের প্রথম জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মুহূর্তটা দারুণভাবে বর্ণনা করেছিলেন বাবা পাবলো। তিনি বলেন, ‘এটা বিশাল চমক ছিল। আমরা জানতাম মাদ্রিদের স্কাউটরা তাকে নজরে রেখেছে, কিন্তু ডাক পেয়ে যাবে ভাবিনি। খবরটা শোনার পর ও যখন রুম থেকে বের হলো... অবিশ্বাস্য! ও রীতিমতো কাঁপছিল, কথাই বলতে পারছিল না।’
এরপর অনুশীলনে মেসির সাথে একটি ছবি পোস্ট করে নিকো ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘স্বপ্ন সত্যি হলো।’ স্পেনের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ ছিল কি না এমন প্রশ্নে পাবলো জানান, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কখনোই তাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাই বেছে নেওয়ার মতো কোনো দ্বিধাই ছিল না।
বয়সভিত্তিক (অনূর্ধ্ব-২০ ও ২৩) দল পেরিয়ে নিকো এখন স্কালোনির নিয়মিত আস্থার নাম। চলতি বছরের মার্চে ফিফা উইন্ডোতে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ফ্রি-কিক থেকে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সিতে ১১টি ম্যাচ খেলেছেন। চলতি বিশ্বকাপেও আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১০ মিনিট এবং জর্ডানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থেকে ৬১ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। আজ জন্মভূমির বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বেঞ্চে সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেন এই তরুণ।
ফুটবলে জন্মভূমির বাইরে অন্য দেশের হয়ে খেলা বা একে অপরের মুখোমুখি হওয়াটা এখন বেশ সাধারণ ঘটনা। কিন্তু বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে নিজের জন্মভূমির বিপক্ষেই মাঠে নামার ঘটনা ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে। আর সেই অনন্য রেকর্ডের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন স্পেনে জন্ম নেওয়া এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
একেএস/টিএ