সিনেমার বৈশ্বিক নেতৃত্বে ‘শঙ্খচিল’-এর গৌতম ঘোষ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৭ পিএম | ২০ জুলাই, ২০২৬
গোল্ড মার্কারির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা মেগাভিশনারি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ‘শঙ্খচিল’ খ্যাত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ।
বিশ্বব্যাপী শান্তি, সংস্কৃতি, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটির এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোল্ড মার্কারির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানবতা, সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন গৌতম ঘোষ। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক নেতৃত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
১৯৫০ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া গৌতম ঘোষ ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। এরপর তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আন্তর্জাতিক মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে অন্তর্জলী যাত্রা, পদ্মা নদীর মাঝি, মনের মানুষ, শঙ্খচিল এবং ‘রাহগীর। পাশাপাশি সত্যজিৎ রায়, উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান ও দালাই লামাকে নিয়ে নির্মিত তাঁর প্রামাণ্যচিত্রও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গৌতম ঘোষ অর্জন করেছেন ১৬টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একাধিক ফিল্মফেয়ার সম্মান এবং কান, ভেনিস, নঁত, তাসখন্দসহ বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কার। ইতালির মর্যাদাপূর্ণ ভিত্তরি দে সিকা অ্যাওয়ার্ড পাওয়া একমাত্র ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাও তিনি।
এছাড়া ২০০৬ সালে ইতালির প্রেসিডেন্ট তাঁকে ‘অর্ডার অব দ্য স্টার অব ইতালিয়ান সলিডারিটি’-এর নাইটহুডে ভূষিত করেন।
ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতার শেরিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ চলচ্চিত্র উৎসব কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (কেআইএফএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।
গোল্ড মার্কারির মেগাভিশনারি কাউন্সিল বিশ্বজুড়ে সরকার, ব্যবসা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। এই কাউন্সিল প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং ফিউচার ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এই প্রেক্ষাপটে গৌতম ঘোষ গোল্ড মার্কারি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবেও কাজ করবেন। সেখানে তিনি এআইয়ের প্রভাবে সিনেমা, সৃজনশীল শিল্প, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং মানবিক সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অবদান রাখবেন।
গোল্ড মার্কারির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস দে সান্তিস কুয়াদ্রা বলেন, “গৌতম ঘোষ বিশ্বের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রকার। তাঁর শিল্পীসত্তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে।”
নিজের প্রতিক্রিয়ায় গৌতম ঘোষ বলেন, “এই দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, সিনেমা ও সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে সংযোগ তৈরি করতে পারে। বৈশ্বিক পরিবর্তনের এই সময়ে আরও শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় গোল্ড মার্কারির সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।” গোল্ড মার্কারি
এসএন