রাবি শিক্ষার্থীকে মারধররাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ, সারাদেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫১ এএম | ২১ জুলাই, ২০২৬
রাজশাহীতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) কর্তৃক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত টিটিই-র উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে রাজশাহীতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন রাবি শিক্ষার্থীরা। এতে সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে তারা এ অবরোধ গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের (৬৭ ব্যাচ) ছাত্র।
জানা গেছে, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণকালে উক্ত টিটিই সরকারি রসিদ প্রদান না করে অসাধু উপায়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ (ঘুষ) করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ জানালে টিটিই তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। শিক্ষার্থীর পরনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সম্বলিত টি-শার্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে উপর্যুপরি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সহপাঠীরা। পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহার জন্য শিক্ষার্থীরা স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে পূর্ববর্তী একটি স্টেশনে জোরপূর্বক নামিয়ে দেয়া হয়।
ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে সকল প্রকার ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের সম্মুখে হাজির করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ওপর দিয়ে কোনো ট্রেন চলাচল করতে দেয়া হবে না।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় জানার পরও একজন শিক্ষার্থীর ওপর এমন বর্বর হামলা মেনে নেয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ না অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে হাজির করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। আজ আমরা এর প্রতিবাদ না করলে কাল যেকোনো সাধারণ যাত্রী বা শিক্ষার্থী একই নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। এদিকে, অবরোধের কারণে সাময়িক ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় সাধারণ যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে অভিযুক্ত টিটিই-কে হাজির না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রেললাইন ছাড়বেন না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
এমআই/এসএন