শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে নয়, নিরাপদ ব্যবহার শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৯ পিএম | ২১ জুলাই, ২০২৬
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভয় নয়, বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে না রেখে সঠিক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নর্মস (ডিজিটাল পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড) : জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বরং সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার সক্ষমতা গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এর সবচেয়ে বড় শিকার। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা নয়; বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু ও নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার আওতায় আনতে ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের জন্য ট্যাব সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওগুলোর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হবে এমন যেকোনো উদ্যোগ সরকার নিতে ও বিস্তৃত করতে প্রস্তুত। মন্ত্রণালয় এখন ‘ওপেন-ডোর’ নীতিতে কাজ করছে। ফলপ্রসূ উদ্যোগ নিয়ে এলে তা মূল্যায়ন করে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি, খুলনা ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরআই/টিএ