বাবা, বড় ভাইসহ এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:১৫ এএম | ২২ জুলাই, ২০২৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বিদ্যালয়ের জমি দখল, মাটি কাটা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় কাফির পাশাপাশি তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনকেও আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া মামলা দায়ের ও আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্তরা মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও খোন্তাসহ খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন রজপাড়া মৌজার (বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগ) একটি জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা মাটি কেটে জমির আকৃতি পরিবর্তন করে বেআইনিভাবে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালান।
বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম আরও পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং রাস্তা নির্মাণকাজে বাধা দেন। বাদীর অভিযোগ, বাধা পেয়ে নুরুজ্জামান কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। শিক্ষকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধাক্কাধাক্কি করেন এবং নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা ওই জমির প্রায় ১১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের (প্রায় ৬ শতাংশ) অংশ থেকে মাটি কেটে ট্রলিতে করে অন্যত্র সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে সেখানে কংকর ফেলে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নুরুজ্জামান কাফি। গণমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ ওই জমির প্রকৃত ওয়ারিশরা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে তাদের পক্ষে রায় পেয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি সেই ওয়ারিশদের কাছ থেকেই বায়না সূত্রে জমিটি কিনেছেন। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কাফি আরও বলেন, প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে উঠে আসবে।
কেএন/এসএন